নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজ্য সরকার যখন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে মা ও শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের বরাদ্দ বাড়িয়ে ডিম, ডাল ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করার কথা ঘোষণা করেছে, ঠিক সেই সময় পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকের ৫ নম্বর সারতা গ্রাম পঞ্চায়েতের আদাসিমলা দেশপ্রাণ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে উঠে এল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত খাদ্যতালিকার বদলে ওই কেন্দ্রে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র ভাত, আলু সিদ্ধ ও সিদ্ধ ডিম। খাদ্যতালিকায় ছিল না ডাল, ছিল না কোনও পুষ্টিকর সবজিও। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন একাধিক অভিভাবক। তাঁদের প্রশ্ন, সরকার যখন পুষ্টির উপর জোর দিচ্ছে, তখন মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না কেন?
বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে আরেকটি গুরুতর অভিযোগে। আজও ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের খাবার রান্না করা হয় বাথরুম হিসেবে একসময় ব্যবহৃত একটি ঘরে। শিশুদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সরকার যেখানে উন্নত পরিকাঠামোর কথা বলছে, সেখানে এমন অভিযোগ প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
যদিও কেন্দ্রের কর্মী শিলা হাজরা অভিযোগ স্বীকার করে জানান, প্রতিদিন সরকারি নির্দেশিকা মেনেই খাবার পরিবেশন করা হয়। তাঁর দাবি, শ্রাবণ মাস চলায় গত কয়েকদিন ধরে বহু উপভোক্তা অনুপস্থিত থাকছেন। ওই দিনও কয়েকজন অভিভাবক দেরিতে এসে দ্রুত খাবার নিয়ে বাড়ি যেতে চাওয়ায় ভাত, আলু সিদ্ধ ও ডিম দেওয়া হয়েছিল। পড়ে থাকা বাথরুম ঘরে রান্না হয় বলেও তিনি জানান।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এটি কি শুধুই এক দিনের ব্যতিক্রম, নাকি দীর্ঘদিনের অনিয়ম? যদি সত্যিই বাথরুমে রান্না হয়ে থাকে এবং নির্ধারিত খাদ্যতালিকা মানা না হয়ে থাকে, তবে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে বড় ধরনের অবহেলার অভিযোগ উঠতেই পারে।
অভিভাবকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবিলম্বে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনুক। কারণ অঙ্গনওয়াড়ি শুধু খাবার দেওয়ার কেন্দ্র নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য গড়ার অন্যতম ভিত্তি।











