সবং: দীর্ঘ চার দশকের প্রতীক্ষা। কেলাঘাই নদীর উপর সবং: দীর্ঘ চার দশকের প্রতীক্ষা। কেলাঘাই নদীর উপর একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। দিনের পর দিন সেই দাবি ঘিরে অপেক্ষা চললেও এতদিন বাস্তবে রূপ পায়নি মানুষের স্বপ্ন। এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাঁটাখালীতে কেলাঘাই নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ সামনে আসায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী।একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। দিনের পর দিন সেই দাবি ঘিরে অপেক্ষা চললেও এতদিন বাস্তবে রূপ পায়নি মানুষের স্বপ্ন। এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাঁটাখালীতে কেলাঘাই নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ সামনে আসায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী।
কাঁটাখালীর একদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর থানা এলাকা, অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানা। দুই জেলার সংযোগস্থলের এই এলাকায় কেলাঘাই নদীর উপর সেতু না থাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী পারাপার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা প্রতিটি ঋতুতেই কোনও না কোনওভাবে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০ বছর ধরে এই এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তন হলেও কাটাখালী সেতুর দাবি পূরণ হয়নি। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে নিত্যদিনের প্রয়োজনেও দুই জেলার বাসিন্দাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
তবে এবার পরিস্থিতি বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেতু নির্মাণের সরকারি উদ্যোগের খবর সামনে আসতেই খুশি এলাকার মানুষ। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়িত হলে দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। সময় কমবে, সহজ হবে যাতায়াত এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়েও সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, সেতু অবশ্যই প্রয়োজন। সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু নির্মাণের জন্য যদি কোনও মানুষের জমি বা বসতভিটা প্রয়োজন হয়, তাহলে তাঁদের স্বার্থ ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
এদিকে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ প্রসঙ্গে সবংয়ের বিধায়ক অমল পণ্ডা জানান, নির্বাচনী প্রচারে এসে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা এবং বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিধায়কের কথায়, “সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সেতু। সেই দাবিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আমরা এগিয়ে চলেছি। আশা করছি, এলাকার মানুষও সহযোগিতা করবেন এবং দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে।” কাটাখালী সেতু তৈরি হলে শুধু একটি নদীর উপর সেতু নির্মাণ হবে না, দুই জেলার মানুষের মধ্যে যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে কেলাঘাইয়ের উপর সেই বহু প্রতীক্ষিত সেতু কবে মাথা তুলে দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা এলাকা। এদিনের পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সবং বিডিও রোমান মন্ডল, বিধায়ক অমল পন্ডা সহ অন্যান্য ব্যক্তি।











