নিজস্ব সংবাদদাতা: ভক্তি, আবেগ আর উৎসবের রঙে সেজে উঠেছে বাংলা। আজ জন্মাষ্টমী। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র এই তিথিতে ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব। সকাল থেকেই বিভিন্ন মন্দিরে শুরু হয়েছে বিশেষ পুজো, নামসংকীর্তন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা নামতেই শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টার আওয়াজ এবং ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।
পুরাণের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরার কারাগারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। অত্যাচারী রাজা কংসের হাত থেকে ধর্ম ও মানবতাকে রক্ষা করতেই তাঁর আবির্ভাব। সেই স্মৃতিকে ঘিরেই প্রতিবছর দেশজুড়ে পালিত হয় জন্মাষ্টমী।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরে কৃষ্ণ-রাধার বিশেষ সাজসজ্জা করা হয়েছে। কোথাও তৈরি হয়েছে বৃন্দাবনের আদলে সুদৃশ্য মণ্ডপ, কোথাও আবার শৈশবের কানাইকে দোলনায় বসিয়ে চলছে আরাধনা। ছোট ছোট শিশুদের কৃষ্ণ ও রাধার সাজে সাজিয়ে তোলার ছবিও নজর কাড়ছে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভক্তদের ভিড়। মধ্যরাতে কৃষ্ণের জন্মক্ষণে বিশেষ আরতি, পুজো ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে বহু মন্দিরে। ভক্তদের বিশ্বাস এই পবিত্র রাতে নিষ্ঠাভরে কৃষ্ণের নাম স্মরণ করলে জীবনে শান্তি ও মঙ্গল আসে।
তবে জন্মাষ্টমী শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার লোকসংস্কৃতি, পারিবারিক মিলন এবং শৈশবের নানা স্মৃতি। কৃষ্ণের বাঁশির সুর, দুষ্টু-মিষ্টি কানাইয়ের গল্প আর রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকথায় আজও মুগ্ধ প্রজন্মের পর প্রজন্ম। অন্ধকারের মাঝে আলোর বার্তা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয়, জন্মাষ্টমীর এই চিরন্তন বার্তাই আজও মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে।












