নিজস্ব সংবাদদাতা: আজ ৫ সেপ্টেম্বর। দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে শিক্ষক দিবস। বইয়ের পাতার অক্ষর থেকে জীবনের পথচলা শিক্ষকের হাত ধরেই শুরু হয় মানুষের গড়ে ওঠার সেই যাত্রা। তাই শিক্ষক দিবস শুধু একটি বিশেষ দিন নয়, বরং যাঁরা নীরবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত গড়ে দেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন।
ভারতে ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, দার্শনিক এবং ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের নাম। ১৮৮৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। ১৯৬২ সাল থেকে তাঁর জন্মদিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
এই দিনটিকে ঘিরে স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত হয় নানা অনুষ্ঠান। কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কোথাও আলোচনা সভা, আবার কোথাও শিক্ষকদের সম্মাননা ও ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ পরিবেশনা সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে আবেগ ও ভালোবাসায় ভরা।
তবে শিক্ষক দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য শুধুমাত্র ফুল, উপহার কিংবা শুভেচ্ছাবার্তায় সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষক ছাত্রছাত্রীকে শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেন না; শেখান শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ, যুক্তিবোধ, দায়িত্ববোধ এবং জীবনের কঠিন সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস।
আজ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তথ্য পাওয়া আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। কিন্তু একজন শিক্ষকের অভিজ্ঞতা, অনুপ্রেরণা, মানবিক স্পর্শ এবং একজন পড়ুয়ার সম্ভাবনাকে চিনে নেওয়ার ক্ষমতার বিকল্প এখনও নেই। শিক্ষকের একটি উৎসাহের বাক্য অনেক সময় বদলে দিতে পারে একজন ছাত্রের গোটা জীবন।
শিক্ষক দিবসে তাই প্রাক্তন থেকে বর্তমানঅসংখ্য পড়ুয়ার কণ্ঠে ফিরে আসে একই কথা, “জীবনের প্রথম পথপ্রদর্শককে কখনও ভোলা যায় না।” শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় আজ স্মরণ করা হোক সেই সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে, যাঁদের নিরলস পরিশ্রমে তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের সমাজ। তাঁদের হাত ধরেই জ্ঞানের আলোয় এগিয়ে চলুক নতুন প্রজন্ম। শুভ শিক্ষক দিবস।












