নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা জীবন বাজি রেখে লড়েছিলেন, আজ তাঁদের মূর্তিই ডুবে অন্ধকারে! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের অন্যতম ব্যস্ত তেমাথানি বাজারে এমনই ছবি ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। বাজার সৌন্দর্যায়নের নামে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিশিষ্ট গুণীজনদের মূর্তি বসানো হয়েছে, সামনে দেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক বাতিস্তম্ভও। কিন্তু অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে সেই বাতিগুলিই আর জ্বলছে না।
দিনের আলোয় ঝকঝকে তেমাথানি, আর রাত নামলেই অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছেন দেশের বরেণ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীরা! প্রশ্ন উঠছে মূর্তি বসিয়ে ছবি তোলাতেই কি দায়িত্ব শেষ প্রশাসনের? রক্ষণাবেক্ষণের দায় নেবে কে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি মূর্তির সামনে আলোর ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। অথচ তেমাথানি সবংয়ের অন্যতম ব্যস্ত বাজার। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। সেই বাজারের বুকেই স্বাধীনতা সংগ্রামী ও গুণীজনদের মূর্তি অন্ধকারে পড়ে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
শিক্ষক, সমাজসেবী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষদের সম্মান জানাতে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই মূর্তিগুলির ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ না হলে তা কি আদৌ সম্মান, নাকি শুধুই লোকদেখানো সৌন্দর্যায়ন?
তাঁদের প্রশ্ন, কয়েক দিন নয়, মাসের পর মাস আলো বন্ধ থাকার পরও কেন নজরে পড়ল না প্রশাসনের? এত ব্যস্ত বাজারে বিদ্যুৎবাতি বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও কেন মেরামতির উদ্যোগ নেই? দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতরই বা কোথায়?
স্বাধীনতার ইতিহাসকে সামনে রেখে সাজানো তেমাথানি বাজারের এই ছবি এখন প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতীক হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দ্রুত বাতিস্তম্ভগুলি মেরামত করে ফের আলো জ্বালানোর দাবি উঠেছে। এখন প্রশ্ন একটাই দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা আলো দেখিয়েছিলেন, তাঁদের মূর্তিই আর কতদিন প্রশাসনিক গাফিলতির অন্ধকারে পড়ে থাকবে?













