প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

জলের বুকে স্বপ্নের উড়ান! ১৮ আইআইটির সাঁতারুদের দাপটে নজর কাড়ল খড়্গপুর

Published on: October 13, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়্গপুর: জলের বুকে গতির ঝড়! একদিকে পদক জয়ের অদম্য লড়াই, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছাপিয়ে যাওয়ার দুরন্ত চেষ্টা। সাঁতারের পুলে প্রতিটি মুহূর্তেই উত্তেজনা। দেশের ১৮টি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (আইআইটি) প্রতিভাবান সাঁতারুদের নিয়ে এমনই এক ক্রীড়া উৎসবের সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুরের আইআইটি খড়্গপুর। প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ৪০তম আন্তঃআইআইটি অ্যাকোয়াটিক্স মিট। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সৌহার্দ্য, অধ্যবসায় ও ক্রীড়ামনস্কতার এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হল এই আয়োজনে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১৮টি আইআইটি থেকে প্রতিযোগীরা অংশ নেন এই মর্যাদাপূর্ণ জলক্রীড়া প্রতিযোগিতায়। নিজেদের দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘদিনের অনুশীলনের ফল তুলে ধরার সুযোগ পান তাঁরা। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্বে ছিল সাফল্যের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা।

এবারের প্রতিযোগিতার অন্যতম বিশেষত্ব ছিল তিনটি নতুন ইভেন্টের সংযোজন। প্রথমবারের জন্য প্রতিযোগিতার তালিকায় জায়গা পায় ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ৪০০ মিটার ইন্ডিভিজুয়াল মেডলি এবং ২০০ মিটার বাটারফ্লাই। এই তিনটি ইভেন্ট প্রতিযোগিতার পরিধি আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতার ও একাধিক স্ট্রোকের দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দেয়। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি সাঁতারু বুলা চৌধুরী।

৪০তম আন্তঃআইআইটি অ্যাকোয়াটিক্স মিটের সমাপ্তি অনুষ্ঠানও ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কিংবদন্তি সাঁতারু, পদ্মশ্রী ও অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত বুলা চৌধুরী। তাঁর উপস্থিতি তরুণ সাঁতারুদের কাছে ছিল বিশেষ প্রেরণার। দেশের অন্যতম সফল সাঁতার ব্যক্তিত্বকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ প্রতিযোগিতার সমাপ্তি পর্বকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।

আইআইটি খড়্গপুরের এই আয়োজন কেবল পদক জয়ের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী পড়ুয়াদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, বন্ধুত্ব ও ক্রীড়া সৌহার্দ্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে এই প্রতিযোগিতা। আয়োজকদের বার্তায় উঠে এসেছে, খেলাধুলা শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়। প্রতিযোগিতা যেমন উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে, তেমনই অধ্যবসায় গড়ে তোলে মানসিক দৃঢ়তা। আর পারস্পরিক সৌহার্দ্য তৈরি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি ছাড়িয়ে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক।

৪০তম এই আয়োজন সফল করে তোলার জন্য বিজয়ী, অংশগ্রহণকারী এবং আয়োজক দলের সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছে আইআইটি খড়্গপুর। ১৮টি আইআইটি, একটাই ক্রীড়াচেতনা। প্রতিযোগিতার শেষে পদক ও সাফল্যের পাশাপাশি থেকে গেল একঝাঁক স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রযুক্তি ও গবেষণার উৎকর্ষের জন্য পরিচিত আইআইটি খড়্গপুর এবার জলক্রীড়ার মঞ্চেও তুলে ধরল প্রতিভা, পরিশ্রম ও একতার বার্তা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now