নিজস্ব সংবাদদাতা: সাতসকালে গ্রামের রাস্তায় হেঁটে বেড়ানো এক বন্য হাতিকে ঘিরে তৈরি হল উৎসবের আবহ। বৃহস্পতিবার সকালে মেদিনীপুর সদর ব্লকের দেউলডাঙা এলাকায় জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে শান্ত স্বভাবের বন্য হাতি ‘রামলাল’। তাকে এক ঝলক দেখতে সকাল থেকেই গ্রামবাসীদের ভিড় উপচে পড়ে।
কখনও পিচ রাস্তা, কখনও আবার গ্রামের সরু পথ ধরে ধীরগতিতে হেঁটে বেড়াতে দেখা যায় হাতিটিকে। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের পাশ দিয়েও নির্বিকারভাবে এগিয়ে যায় সে। চারপাশে মানুষের ভিড়, মোবাইল ক্যামেরার ঝলকানি কিংবা কৌতূহলী জনতার কোলাহল কোনও কিছুতেই যেন বিচলিত হয়নি ‘রামলাল’।
হাতিটিকে দেখে অনেকেই কলা, কাঁঠাল, পাউরুটি, কেকসহ বিভিন্ন খাবার দিতে এগিয়ে আসেন। আবার কেউ স্মৃতিবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সেলফি ও ছবি তুলতে। তবে বনদফতরের কর্মীরা বারবার মাইকিং করে এবং উপস্থিত মানুষকে সতর্ক করে জানান, বন্য প্রাণীর খুব কাছে যাওয়া বা খাবার দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই হাতিটি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় যাতায়াত করে এবং মানুষের উপর হামলা বা আক্রমণাত্মক আচরণের কোনও নজির নেই। তার শান্ত স্বভাবের জন্যই গ্রামবাসীরা স্নেহভরে তার নাম দিয়েছেন ‘রামলাল’। ফলে এলাকাবাসীর কাছে সে একপ্রকার পরিচিত ও আদরের সদস্য হয়ে উঠেছে।
তবে বনদফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, বন্য প্রাণী যতই শান্ত স্বভাবের হোক না কেন, তাকে কখনও বিরক্ত করা বা অতিরিক্ত কাছে যাওয়া উচিত নয়। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, খাবার না দেওয়া এবং হাতিটিকে তার স্বাভাবিক গতিপথে চলতে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে বনদফতর।











