প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে, ফিরলেন এক হাত হারিয়ে গৃহবধূ! দাসপুরে তোলপাড়

Published on: July 29, 2026
---Advertisement---

দাসপুর: পেটের যন্ত্রণা নিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছিলেন চিকিৎসার আশায়। কিন্তু সেই চিকিৎসাই কি কেড়ে নিল এক গৃহবধূর ডান হাত? এই প্রশ্ন ঘিরেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে। নাড়াজোল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন হরিরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা কিংকর দলুই। তাঁর দাবি, ভুলভাবে ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই স্ত্রীর হাতের অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে ডান হাতের কনুই থেকে নিচের অংশ কেটে বাদ দিতে হয়।

অভিযোগ, গত ৬ জুলাই গভীর রাতে পেটব্যথায় আক্রান্ত স্ত্রী পুতুল দলুইকে নাড়াজোল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান কিংকর দলুই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে এক নার্স তিনটি ইনজেকশন দেন। পরিবারের দাবি, ডান হাতে ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। বারবার জানানো হলেও অভিযোগ, বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে রোগীকে অন্যত্র রেফার করে দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, পরদিন থেকেই ইনজেকশন দেওয়া স্থান ফুলে যায়, কালো হয়ে পড়ে এবং সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নেয়। মেদিনীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে কলকাতায় রেফার করা হয়। শেষ পর্যন্ত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোগীর প্রাণ বাঁচাতে ডান হাতের কনুই থেকে নিচের অংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়। এক হাতে এখন কীভাবে চলবে সংসার? দিনমজুর স্বামী, অল্প জমিজমা আর সীমিত আয়ের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর অনিশ্চয়তা। চিকিৎসার খরচ, ভবিষ্যতের জীবিকা এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে দাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কিংকর দলুই। পাশাপাশি স্ত্রীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার এবং আজীবন ভরণপোষণের ব্যবস্থারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

দাসপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সড়ঙ্গী জানিয়েছেন, অভিযোগের তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে চিকিৎসায় গাফিলতির প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন একটাই একটি ইনজেকশনের পর কীভাবে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হল? চিকিৎসায় গাফিলতি, নাকি অন্য কোনও জটিলতা? সেই উত্তর মিলবে তদন্তের রিপোর্টেই। তবে ততদিন পর্যন্ত এক হাত হারানো পুতুল দলুই ও তাঁর পরিবারের যন্ত্রণা থেকেই যাবে দাসপুরের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঘিরে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now