প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন, প্রার্থী ঘিরে জমে উঠছে রাজনৈতিক লড়াই

Published on: September 16, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম: ফের রাজ্য রাজনীতির নজর নন্দীগ্রামে। একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকে বারবার রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা পূর্ব মেদিনীপুরের এই বিধানসভা কেন্দ্রে এবার উপনির্বাচন। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ, আর ৯ অক্টোবর হবে ভোটগণনা। ১৬ সেপ্টেম্বর ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়েছে।

নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের মা। মঙ্গলবার তিনি মনোনয়ন জমা দেন। তাঁর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিজেপির তরফে নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক কর্মসূচিও হয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর ঘটনা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে এবং মামলাটির তদন্ত করছে সিবিআই। নির্বাচনী প্রচারেও সেই প্রসঙ্গ উঠে আসছে। তবে বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তদন্তাধীন বিষয় হিসেবেই রয়েছে।

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। বুধবার হলদিয়া মহকুমা শাসকের দফতরে তিনি মনোনয়ন জমা দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অখিল গিরি।

এই উপনির্বাচনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরও নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেসামূল হককে প্রার্থী করেছে। দুই শিবিরের মধ্যে তৃণমূলের সংরক্ষিত প্রতীক ‘জোড়াফুল’ ব্যবহারের অধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই বিতর্কের নিষ্পত্তি হয়নি।

নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে রয়েছে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টও। কংগ্রেস মিলন প্রধানকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে বামফ্রন্টের তরফে সিপিআইয়ের শান্তিগোপাল গিরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে মূল রাজনৈতিক দল ও শিবিরগুলির একাধিক প্রার্থী থাকায় এবারের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন বহুমুখী লড়াইয়ের চেহারা নিয়েছে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকেই নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক গুরুত্ব রাজ্যজুড়ে বিশেষভাবে আলোচিত। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের পর ফের উপনির্বাচনের মঞ্চে সেই নন্দীগ্রাম। একদিকে বিজেপি নিজেদের সংগঠন ধরে রাখতে প্রচারে নেমেছে, অন্যদিকে তৃণমূলের দুই শিবির, কংগ্রেস এবং বামেদের প্রার্থীরাও ভোটারদের কাছে পৌঁছতে শুরু করেছেন। মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবার নজর সরাসরি প্রচারযুদ্ধে। ৬ অক্টোবর ইভিএমে মত জানাবেন নন্দীগ্রামের ভোটাররা। ৯ অক্টোবর গণনার পরই জানা যাবে কার হাতে যাবে নন্দীগ্রামের বিধানসভা আসন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now