কেশপুর: ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার কেশপুরের মোহবনী গ্রামে তাঁর জন্মভিটেতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে একাধিক বিষয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বক্তব্যে উঠে এল কেশপুরের রাজনৈতিক সংঘাত, পুরনো মামলা এবং ২০২৪ সালের সভা ঘিরে তাঁর অভিযোগও।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেশপুরে ‘মোদীজি জিন্দাবাদ’ বলার কারণে বহু মানুষকে অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। সেই সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের জন্য পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালে কেশপুরে তাঁকে সভা করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সেই সময়ের ঘটনাগুলির মামলা পুনরায় খতিয়ে দেখার কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, “আমি কিছুই ভুলিনি।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক জল্পনাও তৈরি হয়।
এদিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টারে না এসে কোলাঘাট থেকে সড়কপথে মোহবনীতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠক থাকায় জঙ্গলমহল এলাকার বিধায়কদের একাংশ সেখানে ছিলেন। অন্যদিকে জেলার অন্যান্য বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন মোহবনীর অনুষ্ঠানে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।
ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃক ভিটের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে মিউজিয়াম, গ্যালারি, লেজার লাইট শো এবং অতিথি আবাস। এ জন্য পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর তৈরির কাজ হবে। বর্ষার মধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে অক্টোবর থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পরিকল্পনার পরিধি অনুযায়ী ৫ কোটি টাকা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন হলে আরও অর্থ বরাদ্দ করা হবে এবং অর্থের কোনও বাধা থাকবে না। আগামী বছর মোহবনীতে এসে উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি দেখতে চান বলেও জানান তিনি।
‘স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে’ নিজেকে অবিভক্ত মেদিনীপুরের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মাটিতে মাতঙ্গিনী হাজরা ও ক্ষুদিরাম বসুর মতো স্বাধীনতা সংগ্রামী জন্মেছেন। তাঁদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।ক্ষুদিরামকে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে পড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। পাঠ্যপুস্তকে ক্ষুদিরামের ভূমিকা আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মোহবনীকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক ও পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষুদিরামের স্মৃতিবিজড়িত মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল, তমলুক হ্যামিল্টন স্কুল-সহ অন্যান্য স্থানকেও আরও বেশি করে জনসমক্ষে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠান থেকে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষুদিরামের জন্মভিটের উন্নয়ন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং কেশপুরের পুরনো রাজনৈতিক ঘটনাকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এদিনের অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ।











