নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উৎসবের মরশুম এখনও শুরু হয়নি। তার আগেই বাজারে যেন চিনিতে আগুন! গত কয়েক মাস ধরে ধাপে ধাপে দাম বাড়ার পর গত এক সপ্তাহে চিনির দর একলাফে বেড়েছে কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা। কলকাতার পাইকারি বাজারে যে চিনি কিছুদিন আগেও ৫২–৫৩ টাকা কেজির আশপাশে ছিল, সেটিই এখন ৬৫–৬৬ টাকায় পৌঁছেছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। ফলে খুচরো বাজারেও দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের হিসেব অনুযায়ী, তিন মাস আগে পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি চিনির দাম ছিল প্রায় ৪৫–৪৬ টাকা। সেখান থেকে ধীরে ধীরে তা ৫২–৫৩ টাকায় ওঠে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দামের গতি যেন আরও বেড়েছে। মোটা দানার চিনিও পাইকারি বাজারে প্রায় ৬৫ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে। সরবরাহ দ্রুত না বাড়লে খুচরো বাজারে চিনির দাম ৭০ টাকা কেজি ছুঁয়ে ফেলতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। এর আঁচ সরাসরি পড়তে পারে উৎসবের বাজারে। কারণ চিনি শুধু ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয় মিষ্টি, বেকারি সামগ্রী, পানীয় এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। ফলে চিনির দাম এভাবে বাড়তে থাকলে উৎপাদন খরচও বাড়বে। তার প্রভাব পড়তে পারে মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর দামে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রও। মজুতদারি রুখতে চিনির স্টক রাখার ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ী ও বড় ক্রেতাদের মজুতের উপর সীমা আরোপ করা হয়েছে, যাতে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করে বাজারে দাম বাড়ানো না যায়। শুধু স্টক লিমিট নয়, বাজারে সরবরাহ বাড়াতেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। প্রায় এক দশক পর বিদেশ থেকে চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। উৎসবের মরশুমে চাহিদা বাড়ার আগেই বাজারে সরবরাহ বাড়ানোই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ চিনির বাজারে এমন অস্থিরতা কেন? আবহাওয়ার প্রভাব, আখ উৎপাদনে ঘাটতির আশঙ্কা, কম প্রাথমিক মজুত এবং উৎসবের আগে বাড়তে থাকা চাহিদাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আখ থেকে চিনি উৎপাদনের পরিবর্তে ইথানল তৈরিতে বেশি আখ ব্যবহারের নীতিও আলোচনায় এসেছে। তবে শুধু ইথানল উৎপাদনকেই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ বলা যায় না সরবরাহ, উৎপাদন, মজুত ও বাজারের চাহিদা মিলিয়েই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে চিনির পাশাপাশি ডাল, পেঁয়াজ-সহ একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ফলে উৎসবের আগে যদি চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের রান্নাঘর থেকে মিষ্টির দোকান সব জায়গাতেই বাড়তি খরচের বোঝা চাপতে পারে। এখন নজর একটাই বিদেশি চিনি বাজারে কবে পৌঁছয়, আর তাতেই কি থামবে চিনির এই ‘দাম-দৌড়’?














