নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: প্রত্যন্ত গ্রামের গর্ভবতী মায়েদের জন্য স্বস্তির খবর। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করাতে আর দূরদূরান্তে ছুটতে হবে না সবং গ্রামীণ হাসপাতালে বসতে চলেছে পোর্টেবল আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন। স্বাস্থ্য দফতরের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সবং ব্লকের হাজার হাজার মানুষের, বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা পরিষেবায় নতুন সুবিধা যুক্ত হবে।
সবং ব্লকের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকার বহু পরিবারেরই আর্থিক সামর্থ্য সীমিত। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করাতে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের যেতে হয় দূরের হাসপাতাল বা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ফলে একদিকে যেমন যাতায়াতের ধকল, অন্যদিকে পরীক্ষা করানোর খরচ দুইয়ের চাপই পড়ে পরিবারের উপর। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি।
সেই পরিস্থিতিতে সবং গ্রামীণ হাসপাতালেই পোর্টেবল আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনের ব্যবস্থা হওয়ার খবর স্বাভাবিকভাবেই আশার আলো দেখাচ্ছে। হাসপাতালে এই পরিষেবা চালু হলে গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা আরও সহজে স্থানীয় স্তরে করানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবং ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সুভাষ কান্ডার জানিয়েছেন, গর্ভবতী মায়েদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই হাসপাতালে পোর্টেবল আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি অমূল্য মাইতি জানিয়েছেন, সবং হাসপাতালে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন বসানোর জন্য স্বাস্থ্য দফতর ও জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই আবেদনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সম্মতি মিলেছে। এই উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য দফতরকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
সবং গ্রামীণ হাসপাতাল জেলা প্রশাসনের সরকারি হাসপাতাল তালিকাতেও নথিভুক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের অন্য সরকারি হাসপাতালেও প্রসূতি মায়েদের দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধার জন্য পোর্টেবল আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন ব্যবহারের নজির রয়েছে।
এখন সবংবাসীর নজর পরিষেবা চালুর দিকে। মেশিনটি বসে নিয়মিত আল্ট্রাসোনোগ্রাফি পরিষেবা শুরু হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন প্রত্যন্ত গ্রামের গর্ভবতী মায়েরা কমবে দূরে যাওয়ার ঝক্কি, সময় ও অতিরিক্ত খরচের চাপ। সবংয়ের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় এই উদ্যোগ তাই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।














