প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

আরব সাগরে মুখোমুখি ভারত-পাক যুদ্ধজাহাজ

Published on: September 17, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: ফের ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনার পারদ চড়াল সমুদ্রের বুকে ঘটে যাওয়া এক নজিরবিহীন ঘটনা। উত্তর আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজের সংঘর্ষ ঘিরে শুরু হয়েছে দুই দেশের তীব্র কূটনৈতিক চাপানউতোর। ভারতের অভিযোগ, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি চলে এসে বিপজ্জনক ও অপেশাদারভাবে গতিপথ বদল করেছিল পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজ। তার জেরেই সংঘর্ষ ঘটে।

ঘটনাটি ঘটে ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। ভারতীয় পক্ষের দাবি, উত্তর আরব সাগরে নিয়মিত নজরদারি অভিযানে ছিল ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজ। সেই সময় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজটি দ্রুত গতিতে ভারতীয় জাহাজের দিকে এগিয়ে আসে এবং নিরাপত্তাবিধি না মেনে manoeuvre করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটির বড় কোনও ক্ষতি হয়নি এবং সেটি নিজের অভিযান চালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে ভারতীয় সূত্রের দাবি।

বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পাকিস্তানি জাহাজটিকে PNS Hunain হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষের পর ওই পাকিস্তানি জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্দরে ফিরে যায়। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপ নেয় নয়াদিল্লি। পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। পাকিস্তানি নৌ ইউনিটের আচরণকে ভারত “অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার” বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করতে বলা হয়।

ভারতের বক্তব্য, সমুদ্রে এই ধরনের বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি চলে আসা ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান সামরিক আস্থাবর্ধক চুক্তির পরিপন্থী। ওই ব্যবস্থার উদ্দেশ্যই ছিল দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা দুর্ঘটনাজনিত সংঘাতের আশঙ্কা কমানো।

তবে গোটা ঘটনায় সম্পূর্ণ উল্টো দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের নৌবাহিনী SEASPARK-26 মহড়া চালানোর সময় পাকিস্তানের এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোনে ভারতীয় নৌজাহাজই নাকি বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি এসে ‘আক্রমণাত্মক manoeuvre’ করে। সেই কারণেই দুই জাহাজের মধ্যে সংস্পর্শ ঘটে বলে পাকিস্তানের দাবি। ইসলামাবাদও ভারতীয় কূটনীতিককে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে এটি নিছক সামুদ্রিক দুর্ঘটনা, নাকি ইচ্ছাকৃত উস্কানিমূলক manoeuvre? ভারত পাকিস্তানি জাহাজের আচরণের দিকে আঙুল তুললেও, এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা সরকারি তথ্য থেকে সংঘর্ষটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছিল এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তবে পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এভাবে বিপজ্জনক দূরত্বে চলে এসে সংঘর্ষে জড়ানো নিঃসন্দেহে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সমুদ্রের বুকে কয়েক মুহূর্তের ভুল হিসাব যে বড় সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে, উত্তর আরব সাগরের এই ঘটনা ফের সেই আশঙ্কাই সামনে আনল।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now