নিজস্ব সংবাদদাতা: সামনে সারি সারি পড়ুয়া। দেশের ভবিষ্যৎ ও ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ নিয়ে চলছে আলোচনা। কিন্তু সেই কর্মসূচির বিষয়বস্তুকে ছাপিয়ে এখন বিতর্কের কেন্দ্রে ক্লাসরুমের একটি চেয়ার! ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, চেয়ারে বসে বক্তব্য রাখছেন এক বিজেপি নেতা, আর তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে ‘বিকশিত ভারত ভিশন ২০৪৭’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে শুশুনদিঘি উচ্চ বিদ্যালয়ে যান বিজেপির ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের কনভেনর সুব্রত গোস্বামী। পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন তাঁকে শ্রেণিকক্ষের একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা। পরে সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
তবে ভাইরাল ছবি ও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি sabang Bulletin পক্ষ থেকে। ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর ঘোষিত লক্ষ্য হল স্বাধীনতার শতবর্ষে, অর্থাৎ ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। এই উদ্যোগে দেশের যুবসমাজকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়নের ভাবনায় যুক্ত করার কথাও জানিয়েছে কেন্দ্র।
কিন্তু শুশুনদিঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে বিতর্ক অন্য জায়গায়। সিপিএম নেতা দীপঙ্কর দে প্রশ্ন তুলেছেন, স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠনের মধ্যে রাজনৈতিক দলের নেতার উপস্থিতি এবং এমন কর্মসূচির প্রভাব কতটা গ্রহণযোগ্য? তাঁর অভিযোগ, শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হচ্ছে। পড়ুয়াদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে সুব্রত গোস্বামীর দাবি, তিনি নিজের ইচ্ছায় কোনও শিক্ষকের চেয়ার দখল করে বসেননি। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকারাই তাঁকে অতিথি হিসেবে বসার অনুরোধ করেছিলেন। প্রথমে তিনি শিক্ষকদের বসতে বললেও তাঁদের অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত চেয়ার গ্রহণ করেন বলে তাঁর বক্তব্য। ঘটনায় কারও খারাপ লেগে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী বলেও জানিয়েছেন বিজেপি নেতা। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট ছবিকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ ঘটনাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে গোটা ঘটনার তদন্ত হোক বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বিজেপির জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে-র বক্তব্যও একই সুরে। তাঁর দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের সম্মতি নিয়েই কর্মসূচি হয়েছিল এবং কাউকে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ফলে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য আয়োজিত কর্মসূচি আপাতত চাপা পড়েছে একটি চেয়ারকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে।
একদিকে বিরোধীদের প্রশ্ন শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক কর্মসূচির সীমারেখা কোথায়? অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা দাবি অতিথিকে সম্মান জানিয়ে বসতে দেওয়ার ঘটনাকেই রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। ভাইরাল ছবির নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা।









