প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

বলিউডে নক্ষত্রপতন! ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত নানা পাটেকর, গোয়ায় শেষ নিঃশ্বাস কিংবদন্তি অভিনেতার

Published on: October 8, 2026
---Advertisement---

বিনোদন ডেস্ক: বৃহস্পতিবারের সকালেই বলিউডে দুঃসংবাদ। প্রয়াত হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। গোয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা। আচমকা তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকের আবহ চলচ্চিত্রজগতে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলা অভিনেতার প্রয়াণে ভারতীয় সিনেমার এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান হল।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সকাল ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক ভাবে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গেলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

একটি সংলাপ, একটি অভিব্যক্তি, আর তাতেই দর্শকদের মন জয়! অভিনয়ের এই স্বতন্ত্র ক্ষমতাই নানা পাটেকরকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রে। কখনও প্রতিবাদী চরিত্র, কখনও কঠোর পুলিশ অফিসার, আবার কখনও নিখাদ হাস্যরসে দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছেন তিনি। তাঁর সংলাপ বলার ধরন, গম্ভীর কণ্ঠস্বর এবং স্বাভাবিক অভিনয় তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন নানা পাটেকর। এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘রাজনীতি’র মতো ছবিতে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, ‘ওয়েলকাম’ ছবিতে উদয় শেট্টির চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও সিনেমাপ্রেমীদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।

শুধু হিন্দি সিনেমাতেই নয়, মারাঠি চলচ্চিত্রজগতেও সমান দক্ষতায় নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন নানা পাটেকর। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসাবে তিন বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। সিনেমার পর্দার বাইরেও সমাজসেবামূলক নানা উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের কৃষক ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল।

চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে একের পর এক স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন নানা পাটেকর। নায়ক, খলনায়ক কিংবা চরিত্রাভিনেতা প্রতিটি ভূমিকাতেই নিজস্ব অভিনয়শৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্রজগৎ হারাল এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বকে। পর্দায় আর নতুন করে দেখা যাবে না সেই চেনা অভিনয়ের দাপট। তবে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে থেকে যাবে তাঁর অসংখ্য সংলাপ, চরিত্র এবং অভিনয়ের মুহূর্ত।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now