নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে OBC-A এবং OBC-B শ্রেণিভুক্ত পুরনো শংসাপত্র নিয়ে বড়সড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। বুধবার বিচারপতি রাজশেখর মান্থা ও বিচারপতি অনুজ সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যে বর্তমানে OBC-A ও OBC-B নামে পৃথক শ্রেণিবিভাগের অস্তিত্ব নেই। ফলে আগের ব্যবস্থায় ইস্যু করা শংসাপত্রগুলির আর বৈধতা থাকছে না। ওই শংসাপত্রের ভিত্তিতে থাকা ব্যক্তিদের সাধারণ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে আদালতের নির্দেশে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ১৬ বছর আগে। ২০১০ সালে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিকে OBC-A এবং OBC-B—দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই শ্রেণিবিন্যাস এবং একাধিক সম্প্রদায়কে OBC তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে আইনি বিতর্ক শুরু হয়।
২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্ট OBC তালিকায় ৬৬টি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি বাতিল করে নতুন করে সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়ের পর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং পুরনো OBC ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।
এরপর ২০২৬ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে OBC-A ও OBC-B-এর পৃথক শ্রেণিবিন্যাস তুলে দিয়ে একক OBC শ্রেণি চালু করা হয়। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা চ্যালেঞ্জও প্রত্যাহার করা হয়।
আইনি চ্যালেঞ্জ প্রত্যাহারের পর পুরনো OBC-A ও OBC-B শংসাপত্রের আইনগত ভিত্তি কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতেই বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ সামনে এল।
আদালতের নির্দেশের ফলে পুরনো OBC-A ও OBC-B শংসাপত্রের ভিত্তিতে সংরক্ষণ-সহ সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে পুরনো শংসাপত্রধারীদের নতুন একক OBC ব্যবস্থায় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
হাইকোর্টের এই নির্দেশকে ঘিরে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে পুরনো OBC শংসাপত্রের ভিত্তিতে যারা শিক্ষা, চাকরি বা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন কিংবা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশের প্রভাব কতটা পড়বে, এখন সেদিকেই নজর।













