নিজস্ব সংবাদদাতা: বঙ্গোপসাগরে ফের সক্রিয় আবহাওয়ার ঘনঘটা। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলের উপর তৈরি নিম্নচাপ ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশে দুর্যোগের কালো মেঘ ঘন করেছে। তার সঙ্গে সক্রিয় বর্ষাকালীন অক্ষরেখা দুইয়ের জোড়া প্রভাবে সোমবার কার্যত বৃষ্টির দাপটে নাজেহাল হওয়ার আশঙ্কা দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়।
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে তৈরি নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জেরেই ১৭ ও ১৮ আগস্ট দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি নজর পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায়। আজ এই তিন জেলায় বিচ্ছিন্ন ভাবে ২০ সেন্টিমিটারের বেশি অতিভারী বৃষ্টিও হতে পারে বলে পূর্বাভাস। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতাও রেহাই পাচ্ছে না। শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়া, রাস্তায় জল জমা এবং যান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। শুধু বৃষ্টি নয়, ঝোড়ো হাওয়াও বাড়াবে দুর্ভোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
এদিকে উত্তরবঙ্গও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ১৭ আগস্ট কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার দাপট ফের চরমে ওঠার আশঙ্কা। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। প্রবল বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনো, গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নীচে আশ্রয় না নেওয়া এবং জলমগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।












