নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ একটানা বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমতেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল দক্ষিণবঙ্গ। কিন্তু সেই স্বস্তি যে খুব বেশি দিন স্থায়ী হচ্ছে না, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে তারই ইঙ্গিত। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কমলেও রাজ্যজুড়ে এখনও সক্রিয় বর্ষার পরিস্থিতি। দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে, আর উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ফের ভারী বৃষ্টির চোখরাঙানি।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া হতে পারে। কোথাও হালকা, কোথাও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ বৃষ্টির দাপট কমলেও পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না বর্ষা। শহর কলকাতায় দিনভর আকাশ মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শহরের বিভিন্ন অংশে নামতে পারে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, কোথাও আবার আচমকা ঝেঁপে নামতে পারে পশলা বৃষ্টি।
তবে বৃষ্টি না হলে অস্বস্তি কমবে না। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি। কলকাতায় ইতিমধ্যেই সকাল সাড়ে ৫টায় আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ।
দক্ষিণের তুলনায় উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও নজরকাড়া। পাহাড় ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধস, নদী-নালায় জলস্তর বৃদ্ধি কিংবা নিচু এলাকায় জল জমার মতো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে। সাধারণ মানুষকেও আবহাওয়ার সতর্কতা উপেক্ষা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু এটাকে বর্ষার বিদায় বলে ভাবার কোনও কারণ নেই। IMD-এর পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দিনও দক্ষিণবঙ্গের বহু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সতর্কতাও রয়েছে। অর্থাৎ বৃষ্টির দাপট কমেছে, বিপদ কাটেনি। বাংলার আকাশে এখনও মেঘের ঘনঘটা কখন কোথায় ফের ঝেঁপে বৃষ্টি নামে, এখন সেটাই দেখার।












