নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কড়া নির্দেশ, অভিযান, গ্রেফতার সবকিছুর পরেও কি থামছে না চোলাই মদের কারবার? পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফের বেআইনি চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের নজরদারি। সরকারি নির্দেশ যদি থাকে, অভিযানও যদি হয়, তাহলে বারবার একই এলাকায় কীভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে চোলাইয়ের ব্যবসা?
চোলাই ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চোলাই ও গাঁজার বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকের দশগ্রাম অঞ্চলের হরেকৃষ্ণ বুথ ও নানকার বুথ এলাকায় চোলাই মদ ও গাঁজার কারবার চলার অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, নজরদারি ও অভিযান সত্ত্বেও বিভিন্নভাবে ফের সক্রিয় হচ্ছে এই বেআইনি কারবার।
শুধু দশগ্রাম নয়, দাঁদরা অঞ্চলের বারাসাতী-সহ একাধিক এলাকাতেও বেআইনি মদের কারবার চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের বক্তব্য, সন্ধ্যা নামলেই কিছু এলাকায় নেশার আসর জমে ওঠে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সামাজিক পরিবেশে। অন্যদিকে নারায়ণগড় ব্লকের কুনারপুর অঞ্চলের জেঠ্যাগেড়্যা এলাকাতেও চোলাই মদের কারবার নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। চোলাইবিরোধী অভিযানে নারায়ণগড়ে বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধারের খবরও সামনে এসেছে।
প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেআইনি মদের হদিস পেলে আবগারি দফতরের নিয়মিত নজরদারি কোথায়? একবার অভিযান চালিয়ে কিছু মদ উদ্ধার বা কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেই কি সমস্যার সমাধান? নাকি কারবারের মূল শিকড়ে পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে? এলাকাবাসীর অভিযোগ, চোলাই মদের দৌরাত্ম্য শুধু নেশার সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে পারিবারিক অশান্তি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং এলাকায় নানা ধরনের সামাজিক অস্থিরতার অভিযোগ। ফলে প্রশাসনের কাছে তাঁদের দাবি, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, নিয়মিত ও ধারাবাহিক নজরদারি চাই।
এখন বড় প্রশ্ন একটাই সরকার যখন চোলাই ও বেআইনি মাদকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে, তখন সেই নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে? আর যদি বেআইনি চোলাইয়ের ঠেক ফের সক্রিয় হয়ে থাকে, তাহলে আবগারি দফতর কি তা দেখতে পাচ্ছে না, নাকি দেখেও নীরব? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছেন সবং থেকে নারায়ণগড়ের বহু বাসিন্দা।














