আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভালোবাসার শেষ ঠিকানা যেন হয়ে উঠল একটি কবর। যে মানুষটিকে একদিন হারিয়েছিলেন রক্তাক্ত হামলায়, শেষ পর্যন্ত তাঁরই কবরের সামনে মিলল প্রেমিকের নিথর দেহ। ইজরায়েলের এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল। যুদ্ধ শেষ হলেও অনেক মানুষের ভিতরের যুদ্ধ শেষ হয় না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে প্রাণ হারিয়েছিলেন তরুণী লিরন বার্দা। সেই ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর প্রেমিক বার আসরফ। পরিবারের দাবি, প্রিয় মানুষকে হারানোর শোক তিনি কখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। প্রায়ই প্রেমিকার কবরের পাশে গিয়ে দীর্ঘ সময় কাটাতেন, যেন নীরব কথোপকথন চলত দু’জনের মধ্যে।
সম্প্রতি এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসরফ।
আচমকাই সেখান থেকে বেরিয়ে যান তিনি। অনেকক্ষণ পরও ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত পৌঁছান লিরনের কবরের কাছে। সেখানে গিয়ে যে দৃশ্য তাঁদের সামনে আসে, তা কোনও দুঃস্বপ্নের চেয়ে কম ছিল না। পরিবারের এক সদস্য জানান, প্রথমে মনে হয়েছিল আসরফ হয়তো কবরের পাশেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। কিন্তু কাছে যেতেই চোখে পড়ে রক্তের দাগ এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র। মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, তিনি নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের ক্ষত শুধু ধ্বংসস্তূপে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা বহু মানুষের মনেও গভীর ক্ষত তৈরি করে। এই ঘটনাও সেই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণার এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে রইল।












