প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

‘শিকারি’ থেকে কিংবদন্তির যাত্রা! কিশোর কুমারের প্রথম চলচ্চিত্রের অজানা গল্প

Published on: July 29, 2026
---Advertisement---

Sabang Bulletin: ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাঁদের অবদান সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও সমান উজ্জ্বল। সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন কিশোর কুমার। গায়ক, অভিনেতা, সুরকার, গীতিকার, প্রযোজক, পরিচালক প্রতিটি পরিচয়েই তিনি ছিলেন অনন্য। কিন্তু এই কিংবদন্তির যাত্রার সূচনা হয়েছিল এক ছোট্ট চরিত্র দিয়ে, ১৯৪৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি চলচ্চিত্র ‘শিকারি’-তে।

তৎকালীন বোম্বে টকিজ প্রযোজিত এই ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন সাভাক ভাচা। ছবির মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন কিশোর কুমারের বড় ভাই, প্রখ্যাত অভিনেতা অশোক কুমার। সেই ছবিতেই প্রথমবার রুপোলি পর্দায় দেখা যায় তরুণ কিশোর কুমারকে। চরিত্রটি ছিল ছোট, সংলাপও সীমিত, কিন্তু সেই উপস্থিতিই ভবিষ্যতের এক মহাতারকার আগমনের ইঙ্গিত বহন করেছিল।

তখনও কিশোর কুমারের লক্ষ্য ছিল না একজন নায়ক হওয়া। তিনি মূলত গানের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট ছিলেন। তাঁর আদর্শ ছিলেন কিংবদন্তি গায়ক কুন্দনলাল সায়গল। পরবর্তীকালে নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠ, গায়কির অভিনব ভঙ্গি এবং অসাধারণ অভিব্যক্তির মাধ্যমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতে এক নতুন যুগের সূচনা করেন।

‘শিকারি’-র পর ধীরে ধীরে অভিনয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেন কিশোর কুমার। ১৯৪৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জিদ্দি ছবিতে প্রথমবার প্লেব্যাকের সুযোগ পান। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘আরাধনা’, ‘আমার প্রেম’, ‘কাটি পতঙ্গ’, ‘ডন’, ‘নমক হালাল’ থেকে শুরু করে অসংখ্য ছবিতে তাঁর কণ্ঠ কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি হাজার হাজার গান গেয়েছেন এবং বহুবার শ্রেষ্ঠ পুরুষ প্লেব্যাক গায়কের সম্মান অর্জন করেছেন।

অভিনেতা হিসেবেও তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত হাস্যরস, ব্যতিক্রমী অভিব্যক্তি এবং প্রাণবন্ত অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ‘চলতি কা নাম গাড়ি’, ‘হাফ টিকিট’, ‘পড়োসন’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও সমান জনপ্রিয়। আজ ‘শিকারি’ শুধুমাত্র একটি পুরনো চলচ্চিত্র নয়; এটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কারণ এই ছবির মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল এমন এক শিল্পীর পথচলা, যিনি পরবর্তীকালে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেছেন তাঁর অসাধারণ প্রতিভা দিয়ে।

প্রজন্ম বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু কিশোর কুমারের গান ও অভিনয়ের আবেদন আজও অমলিন। আর সেই দীর্ঘ সাফল্যের ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় লেখা হয়েছিল ১৯৪৬ সালের ‘শিকারি’ ছবির মধ্য দিয়েই। ইতিহাসের পাতায় তাই ‘শিকারি’ চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে কিশোর কুমারের স্বপ্নযাত্রার প্রথম ধাপ হিসেবে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now