নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলা চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশক ছিল বাণিজ্যিক সিনেমার স্বর্ণালী সময়। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শতাব্দী রায়দের পাশাপাশি দর্শকদের মন জয় করেছিলেন এক অনন্য অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়, নিখুঁত সংলাপ বলা এবং অসাধারণ কমিক টাইমিং তাঁকে খুব অল্প সময়েই বাংলা ছবির অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্রাভিনেতায় পরিণত করে।
নব্বইয়ের দশকের বাংলা ছবিতে শুভাশিস মুখোপাধ্যায় মানেই ছিল হাসির এক আলাদা মাত্রা। কখনও বন্ধুর চরিত্রে, কখনও আত্মীয়ের ভূমিকায়, আবার কখনও সরল-সোজা সাধারণ মানুষের রূপে তিনি এমন অভিনয় করতেন, যা দর্শকের মুখে অনায়াসেই হাসি ফুটিয়ে দিত। তাঁর অভিনয়ে কৃত্রিমতার লেশমাত্র ছিল না; বরং ছিল সহজাত সাবলীলতা।
১৯৯০-এর দশকে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অপরাজিতা’ (১৯৯৮), ‘নিষ্পাপ আসামি’ (১৯৯৭), ‘বকুল প্রিয়া’ (১৯৯৭) এবং ‘শুধু একবার বলো’ (১৯৯৯)-সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এই সময়ে তিনি বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার অন্যতম নির্ভরযোগ্য চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি কখনও শুধুই হাসির অভিনেতা হয়ে থাকেননি। কমেডির পাশাপাশি আবেগঘন কিংবা গম্ভীর চরিত্রেও তিনি সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ফলে পরিচালকদের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন এক বহুমুখী শিল্পী।
আজও টেলিভিশনে নব্বইয়ের দশকের বাংলা ছবিগুলি সম্প্রচারিত হলে শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের দৃশ্যগুলো দর্শকদের আলাদাভাবে আকর্ষণ করে। সময় বদলেছে, বাংলা সিনেমার ধারা বদলেছে, কিন্তু তাঁর অভিনয়ের আবেদন এতটুকুও ম্লান হয়নি।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নব্বইয়ের দশকের কথা উঠলে শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে। কারণ তিনি প্রমাণ করেছিলেন, একজন দক্ষ চরিত্রাভিনেতাও নিজের অভিনয়গুণে একটি ছবিকে আরও প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় করে তুলতে পারেন।













