Sabang Bulletin: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতা রয়েছেন, যাঁদের উপস্থিতি মানেই দর্শকের মুখে অনাবিল হাসি। সেই তালিকার অন্যতম উজ্জ্বল নাম কৌতুক অভিনেতা চিন্ময় রায়। সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাংলা সিনেমার পর্দায় তাঁর অভিনয় ছিল দর্শকদের কাছে হাসির এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
চিন্ময় রায়ের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর স্বাভাবিক অভিব্যক্তি, নিখুঁত সংলাপ পরিবেশন এবং অনবদ্য কমিক টাইমিং। তিনি কখনও অতিরঞ্জিত অভিনয়ের আশ্রয় নেননি; বরং সহজ-সরল ভঙ্গিতেই দর্শকদের হাসিয়েছেন প্রাণ খুলে। তাঁর প্রতিটি চরিত্রে ফুটে উঠেছে মধ্যবিত্ত বাঙালির চেনা জীবন, হাসি-ঠাট্টা আর মানবিকতার ছোঁয়া।
বাংলা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে তিনি একের পর এক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। মহানায়ক উত্তম কুমার থেকে শুরু করে তাপস পাল, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন। নায়কের পাশে থেকেও নিজের অভিনয়গুণে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
শুধু হাসির অভিনেতা হিসেবেই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী আবেগঘন চরিত্রেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাঁর নাম উচ্চারিত হলেই দর্শকের মনে ভেসে ওঠে প্রাণখোলা হাসির অসংখ্য মুহূর্ত। একসময় বাংলা সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল বিনোদনের বাড়তি নিশ্চয়তা। আজও টেলিভিশনে পুরনো বাংলা সিনেমা সম্প্রচারিত হলে চিন্ময় রায়ের দৃশ্যগুলো দর্শকদের একইভাবে আনন্দ দেয়। নতুন প্রজন্মও তাঁর অভিনয়ের সরলতা ও স্বতঃস্ফূর্ততায় মুগ্ধ হয়।
সময় বদলেছে, বাংলা চলচ্চিত্রের ধারা বদলেছে, কিন্তু চিন্ময় রায়ের সৃষ্টি করা হাসির মুহূর্তগুলো আজও অমলিন। বাংলা চলচ্চিত্রের কৌতুক অভিনয়ের ইতিহাসে তিনি চিরকাল এক অনন্য নাম হয়ে থাকবেন। তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে, প্রকৃত শিল্পীর কাজ কখনও পুরোনো হয় না প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা মানুষের মুখে হাসি ফোটায়।













