নয়াদিল্লি: মেধা ও পরিশ্রমের মূল্য যাতে প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির কাছে হার না মানে, সেই লক্ষ্যেই দেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় আইনি পদক্ষেপ কেন্দ্রের। সংসদে পাস হওয়া নতুন আইনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ও পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বার্তা ও ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে যাতে মেধাবী ও পরিশ্রমী পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতেই আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নতুন আইনে প্রশ্নফাঁস থেকে শুরু করে পরীক্ষায় জালিয়াতি ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে কারাদণ্ড দুই ধরনের শাস্তিরই মুখোমুখি হতে পারেন অভিযুক্তরা।
শুধু আইন করে শাস্তির ব্যবস্থা নয়, পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি জোরদার করার মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস ও কারচুপির মতো অনিয়ম রুখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন। তাঁদের সেই পরিশ্রম ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রশ্নফাঁস বা দুর্নীতির মাধ্যমে কোনও অসাধু চক্র যাতে সেই অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, নতুন আইনের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থাই আরও শক্ত করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে তাই শুধু একটি আইন নয়, দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরানোর বড় উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন নতুন আইন কতটা কঠোরভাবে কার্যকর হয় এবং প্রশ্নফাঁসের কারবারে কতটা লাগাম পড়ে, সেদিকেই নজর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।














