নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নাম উচ্চারিত হয় এক সংযত, আদর্শনিষ্ঠ এবং সংস্কৃতিমনস্ক নেতার পরিচয়ে। ছাত্র আন্দোলনের কর্মী থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে পৌঁছনো, তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ, ঘটনাবহুল এবং নানা মোড়ে পরিপূর্ণ।
১৯৬৬ সালে সিপিআই(এম)-এর সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ছাত্র ও যুব আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের তরুণ নেতৃত্বের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৬৮ সালে দলের যুব সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় মাইলফলক।
১৯৭২ সালে তিনি সিপিআই(এম)-এর রাজ্য কমিটির সদস্য হন। বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭৭ সালে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বও সামলান এবং প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় দেন।
২০০০ সালের ৬ নভেম্বর জ্যোতি বসুর উত্তরসূরি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং নতুন বিনিয়োগের লক্ষ্যে তাঁর সরকার একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। তবে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে ওঠে।
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের ইতি ঘটে। তবুও তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত সততা, সাহিত্যচর্চা এবং রাজনৈতিক আদর্শ আজও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
এক নজরে: 👇
১৯৬৬: সিপিআই(এম)-এ যোগদান
১৯৬৮: যুব সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক
১৯৭২: সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য
১৯৭৭: প্রথমবার বিধায়ক ও তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী
১৯৯৬: স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব
৬ নভেম্বর ২০০০: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
২০০১ ও ২০০৬: টানা নির্বাচনী জয়
২০১১: মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায়














