নিজস্ব প্রতিবেদন: পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা এই বর্ষীয়ান নেতা তাঁর স্পষ্টভাষী অবস্থান, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য পরিচিত।
মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরকে কেন্দ্র করেই মূলত তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। যুব কংগ্রেসের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। এরপর একাধিকবার একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি কংগ্রেসের অন্যতম শক্তিশালী সংসদীয় মুখে পরিণত হন।
২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে তাঁকে কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও দেওয়া হয়। সংসদে সরকারের নীতি, বিরোধীদের বক্তব্য এবং জনস্বার্থের নানা ইস্যুতে তাঁর সরব উপস্থিতি তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।
২০১৯ সালে তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা হিসেবে বিরোধী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। সংসদে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণাত্মক বক্তব্য, তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক সমালোচনা এবং সরাসরি অবস্থান তাঁকে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে বারবার নিয়ে এসেছে।
রাজ্য রাজনীতিতেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি—উভয় দলের বিরুদ্ধেই তিনি ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেসের সংগঠন ধরে রাখতে তাঁর ভূমিকা রাজনৈতিক মহলে উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
তবে রাজনৈতিক জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতার মুখও দেখতে হয়েছে তাঁকে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে তিনি পরাজিত হন। দীর্ঘদিনের সাংসদ জীবনের সেই অধ্যায় শেষ হলেও সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে এখনও নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন তিনি।
সমর্থকদের কাছে তিনি লড়াকু নেতা, আবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে কঠোর সমালোচক। বিতর্ক, সংগ্রাম, সাফল্য ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মিশেলে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন পশ্চিমবঙ্গের সমকালীন রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।














