প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

একদিনের ছুটিতেই জঙ্গলমহল! ধর্মতলা থেকে বাঁশপাহাড়ি ছুটবে সরাসরি এসি বাস

Published on: August 8, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রকৃতির কোলে একদিনের নির্ভেজাল অবকাশ কাটাতে আর ব্যক্তিগত গাড়ি বা একাধিক যানবাহনের ঝক্কি নয়। এবার কলকাতার ধর্মতলা থেকে সরাসরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সরকারি বাসে চেপেই পৌঁছে যাওয়া যাবে ঝাড়গ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বাঁশপাহাড়ি। গতকাল শুক্রবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই বহু প্রতীক্ষিত বাস পরিষেবা, যা ঝাড়গ্রামের পর্যটন শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই মনে করছেন পর্যটন মহল। শুক্রবার দুপুরে জামবনি ব্লকের গিধনী বাজারে এই পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু।

নতুন এই এসি বাসটি প্রতিদিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ধর্মতলা থেকে ছাড়বে। ঝাড়গ্রাম শহর হয়ে চিল্কিগড়, গিধনী বাজার, বেলপাহাড়ি পেরিয়ে পৌঁছবে বাঁশপাহাড়িতে। সেখানে কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর বিকেল ৪টায় একই রুট ধরে কলকাতার উদ্দেশ্যে ফিরবে। ফলে সকালে রওনা দিয়ে সারাদিন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটিয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই কলকাতায় ফিরে আসতে পারবেন পর্যটকেরা। এই নতুন পরিষেবার ফলে এক সফরেই ঘুরে দেখা যাবে ঝাড়গ্রামের বহু আকর্ষণ। চিল্কিগড়ের ঐতিহ্যবাহী কনকদুর্গা মন্দির, শান্ত-নিরিবিলি ডুলুং নদীর তীর, ঐতিহাসিক চিল্কিগড় রাজবাড়ি, বেলপাহাড়ির সবুজ পাহাড়-জঙ্গল এবং বাঁশপাহাড়ির মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবই এখন আরও সহজলভ্য।

দীর্ঘদিন ধরেই ট্রেনে ঝাড়গ্রাম পৌঁছে সেখান থেকে বাস বা ভাড়ার গাড়ির উপর নির্ভর করতে হতো পর্যটকদের। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেন চলাচলে বিলম্বের কারণে সেই ভোগান্তি আরও বেড়েছিল। নতুন এই সরাসরি বাস পরিষেবা সেই সমস্যার কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেলপাহাড়ি ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, “কলকাতা থেকে বেলপাহাড়ি ও বাঁশপাহাড়ি পর্যন্ত সরাসরি বাস চালু হওয়ায় পর্যটনের প্রসারে নতুন গতি আসবে। পর্যটকেরা সকালে এসে সারাদিন ঘুরে আবার বিকেলেই কলকাতায় ফিরতে পারবেন। এতে স্থানীয় হোটেল, দোকান, গাইড ও ছোট ব্যবসায়ীদেরও বড় উপকার হবে।”

বর্তমানে বেলপাহাড়ি থেকে কলকাতাগামী সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ছয়টি বাস চললেও, কলকাতা থেকে সকালে সরাসরি পৌঁছনোর সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। নতুন এই পরিষেবা সেই দীর্ঘদিনের অভাব পূরণ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, “পর্যটক যত বেশি এই এলাকায় আসবেন, ততই স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। শুধু পর্যটকরাই নন, এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন।”

উল্লেখ্য, প্রতি শনি ও রবিবার ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। জেলার উত্তর অংশে বেলপাহাড়ির পাহাড়-জঙ্গল, আর দক্ষিণে সুবর্ণরেখা নদী, ঝিল্লির পাখিরালয় ও নয়াগ্রামের তপোবনের মতো মনোরম পর্যটন কেন্দ্র ঘুরতে এখনও মূলত ভাড়ার গাড়ির উপর নির্ভর করতে হয়, যার জন্য খরচ হয় প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা।

এই পরিস্থিতিতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, সপ্তাহান্তে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে বেলপাহাড়ি ও নয়াগ্রাম রুটে বিশেষ পর্যটন বাস চালু করা হলে আরও বহু পর্যটক ঝাড়গ্রামমুখী হবেন। তাঁদের মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাই ঝাড়গ্রামকে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বড় ভূমিকা নেবে। সবুজ পাহাড়, ঘন জঙ্গল, নদী আর ইতিহাসের টানে ঝাড়গ্রাম এবার আরও এক ধাপ কাছে শুধু একটি বাসযাত্রার দূরত্বে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now