ইন্দ্রজিৎ সাহুঃ বয়সের কাঁটা ৯৩ পেরিয়েছে। শরীরের বয়স বেড়েছে, বদলেছে রাজনৈতিক সময়, এসেছে একের পর এক নতুন প্রজন্ম। কিন্তু দায়িত্ববোধে আজও যেন কোনও ভাটা নেই। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পঞ্চায়েত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে এখনও নিয়মিত প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হন সবং ব্লকের ৭ নম্বর নারায়ণবাড় অঞ্চলের হরিহরপুর এলাকার বাসিন্দা অনিল কুমার পাত্র।
পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন অনিলবাবু। ১৯৫৫ সালে রাজনৈতিক পথচলার সূচনা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার পঞ্চায়েতের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ১৯৭৮ সালে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হন। এরপর পরপর দু’বার পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্ব পান।
১৯৮৮ সালে প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও থামেনি তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা। ১৯৮৮ থেকে ২০০৮ সালের সময়পর্বে দু’টি পঞ্চায়েত নির্বাচনে মোট প্রায় দশ বছর পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফের টানা দশ বছর প্রধানের দায়িত্ব সামলান তিনি।
এরপরও জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর ভূমিকা শেষ হয়নি। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সবং পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনের পর থেকে এখনও সবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তিনি।
বয়সের ভার তাঁকে দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি। নিয়মমাফিক পঞ্চায়েত সমিতির বৈঠক থাকলে এখনও সবং ব্লক অফিসে হাজির হন অনিল কুমার পাত্র। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা আর প্রবল মানসিক জোরে আজও প্রশাসনিক কাজকর্মের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন তিনি।
একসময় যে রাজনীতির হাত ধরে গ্রামবাংলার পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় পথচলা শুরু করেছিলেন, সময়ের সঙ্গে সেই রাজনীতির বহু পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছেন অনিলবাবু। বদলেছে সরকার, বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ, বদলেছে পঞ্চায়েতের কাঠামো, কিন্তু তাঁর দায়িত্ব পালনের মানসিকতায় এখনও যেন সেই পুরনো দৃঢ়তাই রয়ে গিয়েছে।
তাঁর এই কর্মনিষ্ঠা ও মানসিক জোর দেখে অনুপ্রাণিত হন বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। নবীনদের ভিড়ে প্রবীণ এই জনপ্রতিনিধি যেন মনে করিয়ে দেন জন প্রতিনিধিত্ব শুধু পদ নয়, মানুষের প্রতি দীর্ঘদিনের দায়বদ্ধতারও নাম। চার দশকেরও বেশি সময় পঞ্চায়েতের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও ৯৩ বছর বয়সে নিয়মিত বৈঠকে উপস্থিতি অনিল কুমার পাত্রের এই অধ্যায় নিঃসন্দেহে সবংয়ের পঞ্চায়েত রাজনীতির ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী নজির।














