নিজস্ব প্রতিবেদক: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। এবার নেতাজিকে অসম্মান করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট বা অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর বক্তব্যে দাবি করা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির হাতে বন্দি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়েছিল। এমনকী এই পরিস্থিতিকে নেতাজি কাজে লাগিয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর বক্তব্যে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু কিংবা কংগ্রেসের আন্দোলনের পাশাপাশি কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকার প্রসঙ্গ উঠে আসে। তাঁর দাবি, ইতিহাসে কোচবিহারের মহারাজার অবদান যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
অনন্ত মহারাজের এই বক্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। নেতাজির মতো সর্বজনশ্রদ্ধেয় স্বাধীনতা সংগ্রামীকে নিয়ে এমন মন্তব্য কেন করা হল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিজেপির অন্দরেও এই মন্তব্যকে ঘিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।
এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি নেতাজিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য, অপমানজনক বক্তব্য বা অসম্মানজনক প্রচার বরদাস্ত করা হবে না। এমন পোস্ট করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপত্তিকর পোস্ট সরিয়ে ক্ষমা চাইলেও আইনি প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ রেহাই মিলবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নিজের নিয়মেই পদক্ষেপ করবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অনন্ত মহারাজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ক্ষেত্রেও কি একই আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর হবে?
অন্যদিকে নেতাজির স্মৃতিকে সামনে রেখে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় সেবামূলক কেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে নেতাজির বিশেষ ছবি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা হলে সংশ্লিষ্ট সেবাকেন্দ্রকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আবহে নেতাজিকে ঘিরে ফের তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। একদিকে অনন্ত মহারাজের বক্তব্য, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান দুইয়ের সংঘাতে বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার। তবে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ যে দ্রুত কমছে না, তা স্পষ্ট।













