ইন্দ্রজিৎ সাহু: স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে দেশাত্মবোধের এক অনন্য নজির দেখা গেল সবং পশ্চিম চক্রের আশাপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে পড়ুয়াদের নিয়ে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর সেই কর্মশালায় দোকান থেকে কেনা নয়, বরং নিজেদের হাতেই প্রাকৃতিক উপাদান ও প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে জাতীয় পতাকা তৈরি করল খুদে পড়ুয়ারা।
ইতিমধ্যেই ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকার সাজে সেজে উঠেছে বিদ্যালয় চত্বর। কর্মশালায় শিক্ষার্থী পরিষদের প্রধানমন্ত্রী ইভা খাটুয়া, উপপ্রধানমন্ত্রী গৌরাঙ্গ পড়্যা, কৃষ্টি মন্ত্রী দীপান্বিতা সাঁতরা, শিক্ষামন্ত্রী অন্বেষা সাঁতরা-সহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য এবং বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয়। শিশু শ্রেণির খুদেদেরও পতাকা তৈরিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় বড়রা।
প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদান থেকে তৈরি রং দিয়ে সাদা কাপড়ে ফুটিয়ে তোলা হয় গেরুয়া, সাদা ও সবুজের তেরঙ্গা। নিজেদের হাতে জাতীয় পতাকা তৈরি করতে পেরে পড়ুয়াদের মধ্যে দেখা যায় প্রবল উৎসাহ। স্বাধীনতা দিবসের দিন এই হাতে তৈরি পতাকা নিয়েই প্রভাতফেরিতে অংশ নেবে তারা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপম বেরা জানান, এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পতাকা তৈরি শেখানো নয়, পড়ুয়াদের মধ্যে দেশাত্মবোধ, সৃজনশীলতা এবং জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা। তাঁর কথায়, “নিজেদের হাতে তৈরি পতাকার সঙ্গে পড়ুয়াদের একটা আবেগ ও দায়বদ্ধতা তৈরি হবে। ফলে স্বাধীনতা দিবসের পর বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় পতাকার যে অবমাননা দেখা যায়, তা রোধ করতেও এই উদ্যোগ কার্যকর হবে।”
তিনি আরও বলেন, সকলে একসঙ্গে কাজ করার ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহযোগিতার মানসিকতা ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব চিন্তাভাবনারও বিকাশ ঘটছে।
সহকারী শিক্ষক কমল খাটুয়া বলেন, “দেশ আমাদের মা। সেই মাকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। ছোটবেলা থেকেই এই চেতনা শিশুদের মধ্যে গড়ে তুলতে পারলে আগামী প্রজন্ম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, ভগৎ সিংয়ের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হবে। সেই লক্ষ্যেই গত বছরের মতো এবারও এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।”
পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া সৌমদীপ রায়ের মুখেও আনন্দের ছাপ। তার কথায়, “স্কুলে জাতীয় পতাকা তৈরি করতে শিখে খুব আনন্দ পেয়েছি। বাড়িতেও পতাকা বানিয়েছি। স্বাধীনতা দিবসের দিন সেই পতাকা তুলব।” বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অরিজিৎ দাস অধিকারী, মানস ভট্টাচার্য, গদাধর চৌধুরী, রামপদ পড়্যা, বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সহ-সভাপতি বটকৃষ্ণ পাল এবং অভিভাবকরাও এই উদ্যোগে খুশি। তাঁদের মতে, এই কর্মশালার ফলে একদিকে যেমন পতাকা কেনার খরচ কমছে, অন্যদিকে ছোটদের সৃজনশীলতারও বিকাশ ঘটছে।
সব মিলিয়ে আশাপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাধীনতার আবহ যেন অন্য মাত্রা পেয়েছে। নিজেদের হাতে তৈরি তেরঙ্গা হাতে খুদেদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে গর্ব, আনন্দ আর দেশপ্রেম। নিজ হাতে তৈরি পতাকা যেন তাদের কাছে শুধুই একটি পতাকা নয়, দেশের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক আবেগঘন প্রতীক।














