প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

ট্রেন ছুটছে, হঠাৎ বিপদের সংকেত! উপস্থিত বুদ্ধিতে পরিস্থিতি সামলে পুরস্কৃত পাঁচ রেলকর্মী

Published on: August 22, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়গপুর: একটু অসতর্কতা মানেই বড় বিপদ। আর সেই বিপদের আগেই পরিস্থিতি আঁচ করে দ্রুত পদক্ষেপ রেলপথে নিরাপত্তার এমনই নজির গড়লেন খড়গপুর ডিভিশনের পাঁচ রেলকর্মী। তাঁদের অসাধারণ সতর্কতা, উপস্থিত বুদ্ধি এবং কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে নগদ পুরস্কার ও প্রশংসাপত্র দিয়ে সম্মানিত করলেন খড়গপুরের ডিআরএম ললিত মোহন পাণ্ডে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৬/১৭ আগস্ট। ৬৮১৭৩ নম্বর ট্রেনে কর্মরত ছিলেন মোটরম্যান চন্দ্রকান্ত কুমার এবং সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট নরেশ কুমার বৈরওয়া। বেতনতী ও ভানজপুরের মাঝপথে চলন্ত ট্রেনে আচমকাই অস্বাভাবিক পার্শ্বীয় দোলন অনুভূত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জরুরি ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দেন মোটরম্যান। পরে রেলপথ ও আশপাশ পরিদর্শন করে ধরা পড়ে ‘ব্যাঙ্ক স্লিপ’-এর ঘটনা। সময়মতো খবর পৌঁছনোয় দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। বড়সড় বিপদ এড়ানো যায় তাঁদের তৎপরতায়।

এরপর আরও এক ঘটনা। ২৬ জুলাই ১২৮২২ নম্বর ট্রেনে ফুটপ্লেটিং করার সময় মার্কোনার কাছে একটি কোচ থেকে অস্বাভাবিকভাবে ধোঁয়া বের হতে দেখেন CLI সুভাষচন্দ্র সুবুধি। এক মুহূর্তও দেরি না করে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হন। আক্রান্ত কোচের যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়। রেলকর্মীদের সহযোগিতায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে কোচটিকে নিরাপদে আলাদা করে দেওয়া হয়। তাঁর দ্রুত সিদ্ধান্তে সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হয়।

শুধু এখানেই নয়। ২০ আগস্ট ২০৮৯৮ নম্বর রাঁচি-হাওড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে চলার সময় উচ্চগতিতে অস্বাভাবিক ঝাঁকুনি অনুভব করেন লোকো পাইলট কৌশিক মজুমদার ও সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট দিলশাদ আলম। পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং রেল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট লাইনে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তরফে শুরু হয় ট্র্যাক পরীক্ষা। তদন্তে রেললাইনের কাছে ফের মাটির অংশ ধসে পড়ার ঘটনা সামনে আসে।

রেলপথে ছোট কোনও অস্বাভাবিকতাও যে বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে, তা অজানা নয়। তাই ট্র্যাকের অস্বাভাবিকতা, মাটি ধস, আগুন কিংবা অন্য কোনও বিপজ্জনক পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষকে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দায়িত্বই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন এই পাঁচ কর্মী। তাঁদের এই সতর্কতা, উপস্থিত বুদ্ধি ও কর্তব্যনিষ্ঠাকে কুর্নিশ জানিয়ে খড়গপুরের ডিআরএম ললিত মোহন পাণ্ডে তাঁদের হাতে তুলে দেন নগদ পুরস্কার ও প্রশংসাপত্র। রেল কর্তৃপক্ষের বার্তা স্পষ্ট নিরাপত্তায় এক মুহূর্তের সতর্কতাই কখনও কখনও শত শত যাত্রীর জীবন বাঁচাতে পারে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now