প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

১৯৭৪-এ ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি, আজ বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি! অমূল্য মাইতির দীর্ঘ রাজনৈতিক সফর জানেন?

Published on: August 29, 2026
---Advertisement---

সবং: রাজনীতির ময়দানে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। কখনও ছাত্র পরিষদের নেতা, কখনও কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি, কখনও তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব, আবার কখনও নির্বাচনী ময়দানে প্রার্থী। শেষপর্যন্ত গেরুয়া শিবিরে এসে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জয়-পরাজয়, দলবদল, রাজনৈতিক সংঘাত এবং নানা বিতর্ক সব মিলিয়ে ঘটনাবহুল অমূল্য মাইতির রাজনৈতিক জীবন। বর্তমানে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি অমূল্য মাইতি। নিজের রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ ইতিহাস বলতে গিয়ে তিনি ফিরে গেলেন সেই ১৯৭৪ সালে যখন সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি।

রাখির উৎসবে Honda-য় বিশেষ চমক, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাইক কিনলেই বিশেষ ছাড়

সেই সময়ই ছাত্র রাজনীতিতে প্রথম পা। সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয় ছাত্র পরিষদ ইউনিটের সেক্রেটারির দায়িত্ব পান। একই সঙ্গে ছাত্র সংসদের ভারপ্রাপ্ত পরিবহন বিভাগের দায়িত্বও সামলান। কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতির বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশ। পরবর্তীতে যুব কংগ্রেসের সভাপতি এবং তারপর সবং ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি হন। যদিও পরবর্তীতে ব্লক সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন।

১৯৮৪ রাজনীতিতে আরও বড় দায়িত্ব। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন অমূল্য মাইতি। পাশাপাশি আইএনটিইউসি-র জেলা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পান। তাঁর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, সেই সময় জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন আভা মাইতি। এরপর আসে রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘোরানো সময়। অমূল্য মাইতির বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মানস রঞ্জন ভূঁইয়া-মাখন লাল বাঙ্গাল কাছে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে মনোমালিন্য তৈরি হয়। শেষপর্যন্ত কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন অমূল্য মাইতি। যোগদানের পরই সবং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব পান। ২০০২ সালে তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব আরও বাড়ে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। তারপর ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। এবার সরাসরি ভোটের ময়দানে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে সবং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অমূল্য মাইতি। কিন্তু নির্বাচনী লড়াইয়ে তাঁকে পরাজয় স্বীকার করতে হয়। ২০১১ সালে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের পরও সবংয়ের রাজনৈতিক সমীকরণে মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার দাপট বজায় থাকে। এরপর ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন অমূল্য মাইতির রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় খুলে দেয়।

জেলা পরিষদের ভোটে ত্রিমুখী লড়াই, আর সেখানেই জয়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন অমূল্য মাইতি। এরপর তৎকালীন সরকারের সময় বিদ্যুৎ, ক্ষুদ্র শিল্প ও অচিরাচরিত শক্তি দপ্তরের জেলা কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব পান। এই সময়ে উন্নয়নের একাধিক কাজের দাবিও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁর দায়িত্বকালে জেলায় ১৭টি বিদ্যুৎ সাবস্টেশন তৈরি হয়। কেশিয়াড়ী ও ডেবরায় দুটি ১৩২ কেভি সাবস্টেশন, পাঁচটি নতুন বিদ্যুৎ অফিস এবং বেলদায় নতুন ইলেকট্রিক ডিভিশনাল অফিস তৈরির কাজ হয়।

সবংয়ের ক্ষেত্রেও একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দশগ্রামে ১০ শয্যার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, দাঁতড়দা গার্লস হাইস্কুল, মার্কেট কমপ্লেক্স, রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন করা হয়। সবং হাসপাতালের উন্নয়নের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। শুধু পরিকাঠামো নয়, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। একাধিক বিদ্যালয়ে গ্রিন জেনারেটর এবং রুফটপ সোলার সিস্টেম বসানো হয়। দশগ্রাম সতীশচন্দ্র সর্বাত্মসাধক হাইস্কুল, সবং সারদাময়ী হাইস্কুল, জলচক হাইস্কুল ও মালপাড়া হাইস্কুলের নামও উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৮ আবার জেলা পরিষদের লড়াই। নিজের আসন থেকে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অমূল্য মাইতি। তাঁর দাবি, প্রায় ১২ হাজার ভোটে জয়লাভ করে খাদ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব পান তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও এসেছে বলে দাবি অমূল্য মাইতির। তাঁর অভিযোগ, কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ ষড়যন্ত্র করে তাঁকে একটি মামলায় ফাঁসিয়ে রাজনৈতিকভাবে বদনাম করার চেষ্টা করেছিলেন। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এরপরই ফের বদলে যায় রাজনৈতিক ঠিকানা। ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ মেদিনীপুর কলেজ মাঠে বিজেপিতে যোগদান। অমূল্য মাইতির বক্তব্য অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।

দলবদলের পর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ফের সবংয়ের ভোটযুদ্ধে নামেন অমূল্য মাইতি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। কিন্তু এবারও ফল তাঁর পক্ষে যায়নি। তবে ভোটের ফল রাজনৈতিক লড়াই থামাতে পারেনি। অমূল্য মাইতির দাবি, ২০২১ সালের পর তৃণমূলের ‘হাড় হিম করা সন্ত্রাসের’ মধ্যেও তিনি বিজেপি কর্মীদের পাশে থেকেছেন। সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে এলাকায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পর রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আজও সেই দায়িত্বেই সক্রিয় তিনি। নিজের রাজনৈতিক আদর্শের কথা বলতে গিয়ে অমূল্য মাইতি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চান। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও ছিল নতুন প্রত্যাশা। সবং কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটের প্রত্যাশী ছিলেন অমূল্য মাইতি। কিন্তু দল শেষ পর্যন্ত অমল পণ্ডাকে প্রার্থী করে।

টিকিট না পেলেও পিছিয়ে যাননি তিনি। বরং দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থীর পাশে দাঁড়ান। অমল পণ্ডার ইলেকশন এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রার্থীর জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামেন। অমূল্য মাইতির কথায়, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। আগামী দিনেও দলের নির্দেশ মেনে মানুষের জন্য কাজ করব এবং কর্মীদের পাশে থাকব এটাই আমার প্রতিশ্রুতি।”

১৯৭৪ সালে কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে যে রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল, পাঁচ দশক পরেও সেই পথ থামেনি। রাজনৈতিক দলের পরিবর্তন হয়েছে, এসেছে জয়-পরাজয়, দায়িত্বের পালাবদল, বিতর্ক ও নতুন লড়াই। কিন্তু অমূল্য মাইতির দাবি রাজনীতির শেষ ঠিকানা তাঁর কাছে পদ নয়, মানুষের পাশে থাকা এবং দলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পথ চলা। এভাবেই নিজের মুখে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরলেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি অমূল্য মাইতি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

পড়তে ভুলবেন না

EXCLUSIVE: মকরামপুরে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবিরে শুভেন্দুর হুঙ্কার! ‘তৃণমূলকে গণতান্ত্রিকভাবে খতম, সিপিএম যাতে উঠতে না পারে’ কর্মীদের দিলেন জোড়া টার্গেট

মকরামপুরে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবিরে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী, কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হল হোটেল চত্বর

ঝমঝম বৃষ্টির মাঝেও থামল গাড়ি, কর্মীদের আবেগে সাড়া শুভেন্দু অধিকারীর

ডাল-ভাতের আগে গুলি!’ সকালে হুঙ্কার দিলীপের, দুপুরে খড়গপুরে বন্দুক হাতে ফায়ারিং

‘ডাল-ভাতের আগে গুলি!’ মাফিয়া-গুন্ডাদের উদ্দেশ্যে খড়গপুরে দিলীপের কড়া বার্তা

EXCLUSIVE: বয়স ৯৩, তবুও থামেনি পথচলা! চার দশকের পঞ্চায়েত জীবনে আজও নিয়মিত সবং ব্লক অফিসে বৈঠকে হাজির অনিল কুমার পাত্র