Sabang Bulletin: গ্রাম বাংলার আনাচে-কানাচে বেড়ে ওঠা কালমেঘ। তীব্র তেতো স্বাদের কারণে লোকমুখে যার পরিচিতি ‘তিক্তদের রাজা’ বা ‘সবুজ চিরতা’ নামে। বিশেষ যত্ন ছাড়াই বাড়ির আশপাশ, ছায়াযুক্ত কিংবা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বেড়ে ওঠা এই ভেষজ গাছ বহুদিন ধরেই গ্রামীণ লোকজ চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদিক ব্যবহারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
বৈজ্ঞানিক নাম Andrographis paniculata। গ্রামাঞ্চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কালমেঘের ব্যবহার চলে আসছে। বিশেষ করে সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ও হালকা জ্বরের মতো সমস্যায় এর ঐতিহ্যগত ব্যবহার রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণাতেও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কিছু উপসর্গ কমাতে কালমেঘের সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে।
কালমেঘকে অনেক সময় লিভারের জন্য উপকারী ভেষজ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। তবে লিভারের রোগ সারানোর নিশ্চিত ওষুধ হিসেবে কালমেঘকে ব্যবহার করার যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই গুরুতর অসুস্থতা বা দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু ভেষজের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
১৯৭৪-এ ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি, আজ বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি! অমূল্য মাইতির দীর্ঘ রাজনৈতিক সফর জানেন?
স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ‘প্রাকৃতিক’ মানেই যে সবার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ তা নয়। কালমেঘ সেবনে কারও কারও বমিভাব, পেটের সমস্যা বা ত্বকে অ্যালার্জির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
তাই গ্রামের পরিচিত এই ভেষজকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ থাকলেও, নিজের ইচ্ছায় নিয়মিত কালমেঘ পাতার রস বা কোনো ভেষজ প্রস্তুতি খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা কালমেঘ আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তবে ঐতিহ্যবাহী ব্যবহার আর বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার মধ্যে পার্থক্যটিও মনে রাখা জরুরি।














