নারায়ণগড়: একদিকে সরকারের কাজের খতিয়ান, অন্যদিকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ডাক আর তার মাঝেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া রাজনৈতিক বার্তা। রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের মকরামপুরে বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত হয়ে কার্যত ভোটের ময়দানের জন্য কর্মীদের তৈরি হওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাখির উৎসবে Honda-য় বিশেষ চমক, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাইক কিনলেই বিশেষ ছাড়
বিকেলে বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “সরকার এত কাজ করছে। মানুষের পাশে যেতে হবে।” সংগঠন ও সরকারের মধ্যে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধতা ও সমন্বয় গড়ে তোলার উপরও জোর দেন তিনি।
তবে শুধু উন্নয়নের খতিয়ান নয়, দলের আদর্শ নিয়েও কর্মীদের কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, দলের দুটি মূল আদর্শের সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা যাবে না। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রবাদ এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের একান্ত মানববাদ তথা জনকল্যাণ এই দুই আদর্শকে সামনে রেখেই সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
ভাই-বোনের ভালোবাসার উৎসবে বিশেষ চমক, তেমাথানি সেন ওয়াচ কোং অ্যান্ড মোবাইলে কেনাকাটায় ছাড়
মানুষের কাছে পৌঁছনোর কর্মসূচি হিসেবেও সেবাপক্ষ পালনের উপর জোর দেন শুভেন্দু। ১৭ সেপ্টেম্বর নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন থেকে ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তী পর্যন্ত এবং ২৩ জুন আত্মবলিদান দিবস থেকে ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী পর্যন্ত সেবামূলক কর্মসূচি পালনের কথা বলেন তিনি।
প্রশিক্ষণ শিবিরের ভিতরের বিষয় বাইরে বলা যায় না বলে জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “দুটো কাজ তো সবাইকে আমার মন্ত্রগুপ্তি শপথ বাক্য পাঠ করাচ্ছি আমি।” এরপরই তিনি স্পষ্ট করে দেন বিজেপির রাজনৈতিক লক্ষ্য “তৃণমূলকে একদম গণতান্ত্রিকভাবে খতম। আর সিপিএম যাতে উঠতে না পারে। দুটি কাজই একসঙ্গে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে সংগঠনকে চাঙ্গা করার বার্তা, অন্যদিকে তৃণমূল ও সিপিএমকে নিশানা করে জোড়া রাজনৈতিক টার্গেট মকরামপুরের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে বিজেপির আগামী দিনের লড়াইয়ের সুর যে বেশ চড়া, তা স্পষ্ট তাঁর বক্তব্যেই।
সরকার কী কী করেছে এবং আগামী দিনে কী কী করতে হবে, কর্মীদের সামনে সেই বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু। ফলে প্রশিক্ষণ শিবির শেষ হলেও মকরামপুর থেকে দেওয়া তাঁর রাজনৈতিক বার্তা এখন জেলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াতে শুরু করেছে।














