ঝাড়গ্রাম: ১৪ বছরের এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার শিলদা এলাকা। ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল ১১টা থেকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, বিক্ষোভের মাঝেই অভিযুক্তের বাড়ি ও দোকানঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার ওই নাবালিকা টোটো করে প্রাইভেট টিউশনে যাচ্ছিল। অভিযোগ, সেই সময় টোটোচালক তাকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের পথে না নিয়ে অন্য একটি রাস্তায় নিয়ে যান। সেখানেই ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভয়ে ঘটনার দিন কাউকে কিছু জানায়নি ওই স্কুলছাত্রী। পরে মঙ্গলবার বাড়ির সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা জানায় সে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে বেলপাহাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্তে নামে পুলিশ। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত টোটোচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়। রবিবার সকাল ১১টা থেকে শিলদায় রাস্তা অবরোধ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নাবালিকার উপর এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিক্ষোভ চলাকালীন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চরম শাস্তির দাবিও ওঠে।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তের বাড়ি ও দোকানঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগের পর নাবালিকার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে তাকে মেদিনীপুরের একটি হোমে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
নাবালিকার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বেলপাহাড়ি থানার পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ, অভিযোগের সম্পূর্ণ সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে। একইসঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।














