নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাত তখন গভীর। টানা বৃষ্টির মধ্যে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। আচমকাই মধ্যরাতে বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাটির বাড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়লেন পরিবারের সদস্যরা। পরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে বাবা ও মেয়েকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। গুরুতর জখম হন পরিবারের আরও দুই সদস্য। মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন বিধানসভার বেলদা থানার অন্তর্গত জাহালদা এলাকায়। মৃতদের নাম নিরঞ্জন প্রধান ও তাঁর মেয়ে দুর্গা প্রধান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির জেরে নিরঞ্জন প্রধানের মাটির বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টির কারণে বাড়ির মাটির দেওয়াল দুর্বল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেও স্থানীয়দের দাবি। রবিবার গতকাল রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভিতরে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে আচমকাই ঘটে বিপর্যয়। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মাটির বাড়ি। ঘুমন্ত অবস্থাতেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা।
বাড়ি ভেঙে পড়ার শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন আশপাশের বাসিন্দারা। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। স্থানীয়দের তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে নিরঞ্জন প্রধান ও তাঁর মেয়ে দুর্গার। এই ঘটনায় নিরঞ্জনবাবুর স্ত্রী ও ছেলে আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেলদা থানার পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বাড়িটি কী কারণে ভেঙে পড়ল, বৃষ্টির জেরে কাঠামো কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মধ্যরাতে একই পরিবারের বাবা ও মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে জাহালদা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।














