ঝাড়গ্রাম: ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। আচমকাই বেসরকারি লজে ঢুকে পড়ল পুলিশ। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল লজের চিত্র। একে একে আটক করা হল ১৩ জন মহিলা ও ৮ জন পুরুষকে। গোপনে ‘মধুচক্র’ চলার অভিযোগে বুধবার সাতসকালে ঝাড়গ্রাম শহরের একটি বেসরকারি লজে পুলিশের এই অভিযানে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম শহরের বিভিন্ন লজে দীর্ঘদিন ধরেই আড়ালে অনৈতিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ পুলিশের কাছে আসছিল। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারিও চালাচ্ছিল পুলিশ। অবশেষে নির্দিষ্ট তথ্য হাতে আসতেই বুধবার ভোরে পরিকল্পনামাফিক ওই লজে হানা দেন ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ আধিকারিকরা। অভিযানের সময় লজের ভিতর থেকে ১৩ জন মহিলা ও ৮ জন পুরুষকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই কার্যকলাপের পিছনে আরও কেউ রয়েছে কি না, কোনও সংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামীম বিশ্বাস। সঙ্গে ছিলেন ঝাড়গ্রাম থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ-সহ পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। লজটির ভিতরে কতদিন ধরে এই কার্যকলাপ চলছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং লজ পরিচালনার সঙ্গে জড়িতদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না সবকিছুই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।একটি লজে ভোরের অভিযানে একসঙ্গে ২১ জন গ্রেফতার হওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে শহরের অন্যান্য লজ ও হোটেলগুলিকে ঘিরেও। কোথাও আড়ালে একই ধরনের কার্যকলাপ চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তবে ধৃতদের বিরুদ্ধে ঠিক কোন কোন ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে এই ঘটনার নেপথ্যে শুধুই কয়েকজনের যোগ, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে। ভোরের অভিযানে ২১ জন গ্রেফতারকে ঘিরে এখন ঝাড়গ্রাম শহরের আলোচনার কেন্দ্রে সেই বেসরকারি লজ। পুলিশের তদন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর শহরবাসীর।














