নিজস্ব প্রতিনিধি: AI প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বদলে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবার বড়সড় কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটল আন্তর্জাতিক পেমেন্ট পরিষেবা সংস্থা ভিসা। সংস্থার বৈশ্বিক পুনর্গঠন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২,৬০০টি পদ বাতিল করা হয়েছে, যা মোট কর্মীর প্রায় ৭ শতাংশ।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে ভারতের বিভিন্ন শাখাতেও। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে বহু কর্মীর কাছে একটি ই-মেল পৌঁছায়, যেখানে তাঁদের চাকরি অবসানের কথা জানানো হয়। ঘুম থেকে উঠেই চাকরি হারানোর খবর পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অনেকেই। ভারতে ভিসার বেঙ্গালুরু, মুম্বই, চেন্নাই ও হায়দরাবাদে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি কেন্দ্র রয়েছে। যদিও কতজন ভারতীয় কর্মী এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছেন, সে বিষয়ে সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, একটি টিমের ২৮ জন সদস্যের মধ্যে ১০ জনকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই ছাঁটাই শুধু নবীন কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা, ডিরেক্টর এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজারদেরও চাকরি হারাতে হয়েছে। ফলে কর্মক্ষমতা বা ভালো মূল্যায়ন থাকলেও চাকরি যে আর নিশ্চিত নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংস্থার প্রধান নির্বাহী রায়ান ম্যাকইনর্নি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিমাণে এআই-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হবে। উদ্দেশ্য, কম জনবল নিয়ে একই কাজ আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা বাড়ানো এবং নিয়মিত নিজেকে আপডেট রাখার বিকল্প নেই। শুধু ভিসাই নয়, ইতিমধ্যেই মাস্টারকার্ড, অ্যামাজন, অ্যাটলাসিয়ান ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থাও এআই-কেন্দ্রিক পুনর্গঠনের পথে এগিয়েছে। ফলে প্রযুক্তি শিল্পে কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।














