নিজস্ব সংবাদদাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৩ অগস্ট রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসে।
সম্প্রতি নেতাজির স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা নিয়ে অনন্ত মহারাজের একাধিক মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। এমনকি নেতাজিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলেও মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ।
এরপরই নেতাজিকে নিয়ে কটূক্তি বা অবমাননাকর মন্তব্যের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দেয় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে অনন্ত মহারাজকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রদান করা হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়।
কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই নেতাজি-বিতর্কে সেই সম্মানই প্রত্যাহার করল রাজ্য। ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একদিকে নেতাজিকে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের তরফে সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দুইয়ের জেরে বঙ্গ রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়ল।
তবে অনন্ত মহারাজ নিজের মন্তব্য থেকে সরে আসেননি। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরও তিনি দাবি করেছেন, তিনি নেতাজির কোনও বদনাম করেননি; বরং তিনি যা বলেছেন, সেটিই ‘আসল ইতিহাস’ বলে তাঁর দাবি। নেতাজির মতো জাতীয় নেতাকে ঘিরে এই বিতর্ক ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে। এবার বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।














