নিজস্ব সংবাদদাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে এক রাজনৈতিক নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নেতাজিকে নিয়ে করা ওই মন্তব্যের পরেই বিভিন্ন মহল থেকে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা।
বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নাগেন্দ্র রায়, যিনি অনন্ত মহারাজ নামে পরিচিত, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকেও আপত্তি উঠেছে।
নেতাজির ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বাংলার মানুষের আবেগ দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব, আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন এবং ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের কারণে তিনি আজও বাংলার মানুষের কাছে গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক। ফলে তাঁকে নিয়ে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য সামনে এলেই তার রাজনৈতিক অভিঘাতও যথেষ্ট বড় হয়ে ওঠে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিজেপির বিরুদ্ধে নেতাজিকে অসম্মান করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে। বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায়ও অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের প্রসঙ্গে দলের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কলকাতায় নেতাজি-সংক্রান্ত এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৃণমূলের প্রতিবাদ কর্মসূচিও রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে পাল্টা স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
তবে রাজনৈতিক তরজার বাইরে এই বিতর্ক ফের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য কতটা দায়িত্বশীল হওয়া উচিত? ইতিহাসের চরিত্র নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বক্তব্যের ধরন নিয়ে যাতে নতুন করে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি না হয়, সেই দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
নেতাজিকে ঘিরে নতুন এই বিতর্কের জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়, রাজনৈতিক দলগুলি কী অবস্থান নেয় এবং বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া কী হয় সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।














