নিজস্ব সংবাদদাতা: ঘরোয়া চিকিৎসায় রসুন ও সরিষার তেলের ব্যবহার নতুন নয়। বিশেষ করে বর্ষা ও শীতের সময় সর্দি-কাশি, শরীর ব্যথা কিংবা গাঁটের অস্বস্তি থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে অনেকেই রসুন দিয়ে সরিষার তেল গরম করে শরীরে মালিশ করেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পদ্ধতি আজও বহু পরিবারের ভরসা। তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুনে থাকা অ্যালিসিন (Allicin) নামক উপাদানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
অন্যদিকে সরিষার তেল শরীরে মালিশ করলে ত্বকে উষ্ণতার অনুভূতি তৈরি হয়, যা রক্তসঞ্চালন কিছুটা বাড়াতে এবং পেশির জড়তা বা ব্যথা সাময়িকভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে। অনেকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এই তেল দিয়ে মালিশ করলে শরীর হালকা লাগে, ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি কিছুটা কমে এবং ক্লান্তি দূর হয়। তবে এর সব উপকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও নেই বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের আরও পরামর্শ, অতিরিক্ত গরম তেল কখনও ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ত্বক পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া যাদের রসুন বা সরিষার তেলে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চুলকানি, লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের ব্যথা, জ্বর বা গুরুতর শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘরোয়া চিকিৎসার উপর নির্ভর না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঘরোয়া পরিচর্যার অংশ হিসেবে রসুন-সরিষার তেলের মালিশ অনেকের কাছে উপকারী মনে হলেও, এটিকে কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সচেতনতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শই সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিরাপদ পথ।














