নিজস্ব প্রতিবেদন: মাত্র ৯ বা ১০ বছর বয়সেই অনেক কন্যাশিশুর ঋতুস্রাব (পিরিয়ড) শুরু হচ্ছে। একসময় যেখানে ১১–১৩ বছর বয়সকে স্বাভাবিক ধরা হতো, সেখানে এখন কম বয়সে বয়ঃসন্ধির লক্ষণ দেখা যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন বহু অভিভাবক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি ক্ষেত্র অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান সময়ে শিশুদের খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অতিরিক্ত ওজন, জাঙ্ক ফুডের প্রতি ঝোঁক, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং বংশগত কারণ এসবের প্রভাবেই অনেক ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি আগেভাগে শুরু হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ৮ বছরের আগেই যদি বয়ঃসন্ধির লক্ষণ দেখা যায় বা ৯–১০ বছর বয়সে ঋতুস্রাবের সঙ্গে অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, তাহলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু এন্ডোক্রিনোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।
শুধু শারীরিক নয়, এই সময়ে মানসিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিভাবকদের উচিত সন্তানকে ভয় না দেখিয়ে ঋতুস্রাব সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার নিয়ম শেখানো এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা করা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া মানেই আতঙ্কের কারণ নয়। তবে বিষয়টি অবহেলা না করে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিলে শিশুর সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।














