নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে শেষ পর্যন্ত দুঃখপ্রকাশ করল সমাজমাধ্যম সংস্থা মেটা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বুধবার কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকে মেটার এক শীর্ষ আধিকারিক এই ঘটনার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। যুবসমাজের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশিত একটি ভিডিও আচমকাই ফেসবুক থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। কিছু সময় পর সেটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা হলেও, কেন এমন ঘটনা ঘটল তা নিয়ে শুরু হয় জোর বিতর্ক। অভিযোগের মুখে মেটা জানায়, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল। তবে সেই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্রের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক।
এদিন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় আইটি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে কনটেন্ট অপসারণের আগে কি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে? যদি থাকে, তবে এই ঘটনা ঘটল কীভাবে? সেই বিষয়ে মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
বৈঠকে শুধু এই ঘটনাই নয়, মেটার প্ল্যাটফর্মে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট (CSAM), নারীদের অবমাননাকর পোস্ট এবং ক্ষতিকর ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও কড়া অবস্থান নেয় সরকার। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয় মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থার পক্ষ থেকে এমন দুঃখপ্রকাশ শুধুমাত্র একটি ভিডিও অপসারণের ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কনটেন্ট মডারেশন, ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট এবং বিজ্ঞাপন নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে মেটার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই দুঃখপ্রকাশকে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহলের একাংশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। বিষয়টি নিয়ে মেটা বা সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এলে পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসতে পারে।














