নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ইলিশের বাজারে এখন সাবধান! এক ভুলেই পকেট ফাঁকা, পাতে বাসি মাছ বর্ষার আকাশে কালো মেঘ জমলেই বাঙালির মন ছুটে যায় রান্নাঘরের দিকে। গরম গরম খিচুড়ি, পাশে সোনালি করে ভাজা ইলিশ, এই ছবিটাই যেন বর্ষার সবচেয়ে বড় বিলাসিতা। কিন্তু এ বছর সেই সুখের স্বাদে পড়েছে দামের কাঁটা। বাজারে ইলিশের জোগান কম, আর সেই সুযোগে বাড়ছে প্রতারণার অভিযোগও।
এখন বাজারে মাঝারি থেকে বড় ইলিশ কিনতে কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। তবুও অনেক ক্রেতার অভিযোগ, বাড়ি গিয়ে মাছ কাটতেই বোঝা যাচ্ছে সেটি ততটা টাটকা নয়। কোথাও দীর্ঘদিন বরফে রাখা মাছ, কোথাও আবার বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়ে ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছেন, নদী ও সমুদ্রে প্রত্যাশিত পরিমাণে ইলিশ না ওঠায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। আর চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফার আশায় নিম্নমানের মাছকে টাটকা বলে বিক্রি করছেন।
তাই ইলিশ কেনার সময় শুধু দাম বা আকার দেখে সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না। মাছের গায়ে স্বাভাবিক রুপালি ঝিলিক আছে কি না, শরীর পটলের মতো চওড়া ও ভারী কি না, চোখ স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল কি না এবং কানকো টকটকে লাল কি না, এসব ভালোভাবে পরীক্ষা করে তবেই কিনুন।
মাছ কাটার সময় রক্তের রংও গুরুত্বপূর্ণ। উজ্জ্বল লাল রক্ত টাটকা মাছের লক্ষণ, আর কালচে বা বাদামি রক্ত ইঙ্গিত দেয় দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশ কেনার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো নয়, সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কয়েক মিনিট সময় নিয়ে মাছটি ভালোভাবে দেখে কিনলে যেমন অর্থের সঠিক মূল্য মিলবে, তেমনই বর্ষার পাতে ফিরবে আসল ইলিশের স্বাদ। বর্ষা এসেছে, ইলিশও আছে। তবে বাজারে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় একটাই, চড়া দাম দিয়ে যেন ভুল মাছ বাড়িতে না নিয়ে ফেরেন।














