নিজস্ব সংবাদদাতা: শ্রাবণ মাস এলেই বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শৈবতীর্থ তারকেশ্বর যেন ভক্তির মহাসমুদ্রে পরিণত হয়। “বোল বাম” ও “হর হর মহাদেব” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা তারকেশ্বর। মনস্কামনা পূরণ, সংসারের মঙ্গল ও পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী, গৃহবধূ, প্রবীণ-সহ নানা বয়সের শিবভক্তরা ছুটে আসেন বাবা তারকনাথের শরণে।
প্রথা অনুযায়ী, অধিকাংশ ভক্ত হুগলির শেওড়াফুলির গঙ্গাঘাট থেকে পবিত্র গঙ্গাজল সংগ্রহ করেন। এরপর কাঁধে বাঁক নিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ খালি পায়ে হেঁটে, কখনও বৃষ্টিকে সঙ্গী করে আবার কখনও রাতভর নিরলস পদযাত্রা শেষে পৌঁছে যান তারকেশ্বর মন্দিরে। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি, শারীরিক কষ্ট কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া—কোনও কিছুই যেন তাঁদের অটুট বিশ্বাসকে টলাতে পারে না।
ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই মন্দির চত্বরে শুরু হয় জলাভিষেক। বাবা তারকনাথের শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল অর্পণ করে ভক্তরা প্রার্থনা করেন সুস্বাস্থ্য, সুখ-সমৃদ্ধি ও মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য। শ্রাবণ মাস জুড়ে এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে তারকেশ্বরে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ। ভক্তদের নিরাপদ যাতায়াত ও সুষ্ঠু দর্শনের জন্য প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকেও নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা।
শ্রাবণের এই পদযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি বাংলার বিশ্বাস, ঐতিহ্য, ত্যাগ ও অটুট ভক্তির এক অনন্য প্রতীক। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষের পদচারণায় আবারও প্রমাণিত হয়। বাবা তারকনাথের প্রতি মানুষের আস্থা আজও একইভাবে অমলিন।














