প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

স্বাধীনতার স্মৃতি বুকে নিয়ে পথচলা, কীভাবে জন্ম নিল IIT খড়গপুর?

Published on: August 12, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজকের দিনে খড়গপুর আইআইটি শুধু দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যে জায়গায় একসময় ব্রিটিশ সরকারের হাতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বন্দি করে রাখা হত, সময়ের পরিবর্তনে সেই জায়গাতেই গড়ে ওঠে দেশের প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি আইআইটি খড়গপুর। আইআইটি খড়গপুরের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প। ব্রিটিশ শাসনকালে ১৯৩০ সালে হিজলিতে এই ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষকে এখানে বন্দি রাখা হয়েছিল।

১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এই ক্যাম্পেই ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে দুই নিরস্ত্র বন্দি সন্তোষ কুমার মিত্র ও তারকেশ্বর সেনগুপ্ত নিহত হন। তাঁদের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও তাঁদের দেহ সংগ্রহ করতে হিজলিতে এসেছিলেন বলে আইআইটি খড়গপুরের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারতের প্রযুক্তিগত শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। এন. আর. সরকার কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশে উচ্চমানের প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

১৯৫০ সালের মে মাসে হিজলি, খড়গপুরে প্রথম আইআইটির যাত্রা শুরু হয়। প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠানটি কলকাতার ৫, এসপ্ল্যানেড ইস্ট থেকে কাজ শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বরে হিজলিতে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৫১ সালের ১৮ আগস্ট মৌলানা আবুল কালাম আজাদের হাতে প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। শুরুর দিনগুলিতে আজকের বিশাল আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে বর্তমানের কোনও তুলনাই ছিল না। ১৯৫১ সালের প্রথম শিক্ষাবর্ষে মাত্র ২২৪ জন পড়ুয়া এবং ৪২ জন শিক্ষক নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির। ঐতিহাসিক হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্পের ভবনেই ছিল শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি এবং প্রশাসনিক দফতর। প্রথম দিকে মোট দশটি বিভাগ নিয়ে শুরু হয়েছিল শিক্ষার কাজ।

১৯৫২ সালের মার্চ মাসে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে বর্তমান আইআইটি খড়গপুরের পরিকাঠামো। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠানের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় নেহরু হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্পের জায়গায় গড়ে ওঠা এই নতুন প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন ভারতের পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। আইআইটি খড়গপুরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এখানেই, একসময় যে জায়গা ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বন্দিশিবির, স্বাধীনতার পর সেই একই জায়গা হয়ে ওঠে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

আইআইটি খড়গপুরের নিজস্ব ইতিহাসেও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা একটি জেল ভবন থেকে শুরু হয়েছিল। যা বিশ্বে অত্যন্ত বিরল উদাহরণগুলির অন্যতম। আজকের আইআইটি খড়গপুর সেই অতীতকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলেছে। আধুনিক গবেষণা, প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি যতই বিস্তৃত হোক, তার শিকড় এখনও সেই ঐতিহাসিক হিজলি মাটিতেই। তাই খড়গপুর আইআইটির ইতিহাস শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস নয় এটি বন্দিশালা থেকে জ্ঞানমন্দিরে ভারতের উত্তরণের এক অনন্য কাহিনি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now