প্রথম পাতারাজনীতিপশ্চিমবঙ্গকলকাতাদেশআন্তর্জাতিকবিনোদনখেলালাইফস্টাইলআবহাওয়াভাইরালচাকরিবাজারদরবিজ্ঞান প্রযুক্তিস্বাস্থ্যঐতিহাসিক
---Advertisement---

মাত্র ২১ বছরেই দেশের জন্য আত্মবলিদান! সবংয়ের বিপ্লবী অনাথবন্ধু পাঁজার অমর ইতিহাস

Published on: August 6, 2026
---Advertisement---

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের নাম উচ্চারিত হলেই যে ক’জন বীর বিপ্লবীর কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়, তাঁদের অন্যতম শহিদ অনাথবন্ধু পাঁজা। অদম্য সাহস, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল প্রতীক তিনি। মাত্র ২১ বছর বয়সেই মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন এই তরুণ বিপ্লবী।

১৯১১ সালের ২৯ অক্টোবর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার জলবিন্দু গ্রামে তাঁর জন্ম। অল্প বয়সেই পিতৃহারা হন অনাথবন্ধু। সংসারের অভাব-অনটন তাঁর পথ রুখতে পারেনি। ছাত্রজীবন থেকেই দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। পরে গোপন বিপ্লবী সংগঠন বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স-এ যোগ দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচার ও দমননীতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিপ্লবীরা অত্যাচারী ব্রিটিশ আধিকারিকদের লক্ষ্য করে একাধিক অভিযান চালান। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরে একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন ব্রিটিশ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বার্নার্ড ই. জে. বার্জ-কে লক্ষ্য করে অভিযান চালান অনাথবন্ধু পাঁজা ও তাঁর সহযোদ্ধারা। গুলিতে বার্জ নিহত হন। তবে অভিযানের পরপরই ম্যাজিস্ট্রেটের দেহরক্ষীর গুলিতে শহিদ হন অনাথবন্ধু। তাঁর সহযোদ্ধা মৃগেন্দ্রনাথ দত্তও পরে প্রাণ হারান।

মাত্র ২১ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করে অনাথবন্ধু পাঁজা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর জীবন কেবল একটি বিপ্লবীর গল্প নয়, বরং দেশের জন্য সর্বস্ব ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আজও সবং, মেদিনীপুর এবং সমগ্র বাংলায় বিভিন্ন স্মরণসভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্মৃতিস্তম্ভের মাধ্যমে তাঁর আত্মবলিদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের এক অনুপ্রেরণার নাম।

স্বাধীনতার অমৃতকালে যখন দেশের বীর সন্তানদের ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে, তখন শহিদ অনাথবন্ধু পাঁজার জীবনও স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীনতা কখনও সহজে আসে না; তার জন্য অসংখ্য তরুণ প্রাণ অকাতরে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now