কলকাতা: রাজ্যের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট কিংবা কম্পিউটার কেনার জন্য পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা আর চালু থাকবে না। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের বর্তমান আর্থিক সহায়তার মডেল বন্ধ করা হচ্ছে।
করোনা অতিমারির সময় অনলাইন পড়াশোনার প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে ২০২১ সালে এই প্রকল্প চালু হয়েছিল। সরকারি, সরকার-পোষিত স্কুল ও মাদ্রাসার যোগ্য পড়ুয়াদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার কেনার জন্য সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হত। পরে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়।
কিন্তু রাজ্যে সরকার বদলের পর এবার সেই নীতিতেই বড়সড় পরিবর্তন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পড়ুয়াদের হাতে সরাসরি মোবাইল কেনার টাকা তুলে দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার কাজে ব্যবহারযোগ্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম দেওয়ার দিকে এগোতে চায় সরকার। প্রয়োজনে আগের তুলনায় বেশি অর্থ খরচ করতেও সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে মোবাইল ফোন দেওয়া হবে না এই বার্তাই স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে স্মার্টফোন-নির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রযুক্তি অবশ্যই শিক্ষার কাজে ব্যবহার হবে, কিন্তু তার জন্য এমন ব্যবস্থা দরকার যাতে পড়ুয়ারা মূলত পড়াশোনার প্রয়োজনেই সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পড়ুয়ারা আর কোনও ডিজিটাল ডিভাইস পাবে না? এখনও পর্যন্ত সরকারের বক্তব্য তেমন নয়। বরং মোবাইলের পরিবর্তে পড়াশোনার জন্য বিশেষভাবে তৈরি বা নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তিগত ডিভাইস দেওয়ার বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষা দফতরকে ভাবতে বলা হয়েছে। সেই ব্যবস্থার ধরন, কারা সুবিধা পাবে এবং কবে থেকে তা চালু হবে। এসব বিষয়ে এখনও বিস্তারিত সরকারি রূপরেখা প্রকাশিত হয়নি।
‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে ইতিমধ্যেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া উপকৃত হয়েছে। ফলে সরাসরি ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধের সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর শিক্ষা দফতরের পরবর্তী ঘোষণার দিকে। ট্যাবের ১০ হাজার টাকা বন্ধ হলেও তার পরিবর্তে ঠিক কী প্রযুক্তিগত সুবিধা পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেবে রাজ্য সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।












