নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: উৎসবের আবহেই বিষাদের খবর। সপ্তমীর সকালে প্রয়াত হলেন ‘বিপ্লবী মেদিনীপুর টাইমস’ পত্রিকার সম্পাদক তারাশঙ্কর চক্রবর্তী। সাংবাদিক মহলে যিনি পরিচিত ছিলেন ‘তারাদা’ নামে। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। হৃদ্যন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু তার আগেই রবিবার সকালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পশ্চিম মেদিনীপুরের সংবাদমাধ্যমে অপূরণীয় ক্ষতি হল বলে মনে করছেন জেলার সাংবাদিকেরা।
রবিবার বিকেলে তাঁর মরদেহ মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজারে তাঁর বাড়িতে নিয়ে আসার কথা। তারাশঙ্করের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর প্রেস ক্লাব-সহ জেলার সাংবাদিক মহল। শোকবার্তা দিয়েছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইতও।
অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় সংবাদপত্র প্রকাশের ইতিহাসে তারাশঙ্করের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৪ সালের ১১ নভেম্বর নিজের হাতে অক্ষরের ব্লক বসিয়ে সংবাদপত্র প্রকাশের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। সেই উদ্যোগের সূত্র ধরেই ক্রমে পরিচিতি বাড়ে ‘বিপ্লবী মেদিনীপুর টাইমস’-এর। সময়ের সঙ্গে পত্রিকার গুণগত মান উন্নত হয়েছে, বেড়েছে পাঠকপরিচিতিও।
তাঁর হাত ধরে জেলার বহু মানুষ সাংবাদিকতার জগতে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের অনেকে পরবর্তী সময়ে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সংবাদপত্র পরিচালনার পাশাপাশি নতুনদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শুধু সংবাদপত্র প্রকাশ নয়, জেলার শিক্ষাক্ষেত্রেও উদ্যোগী ছিলেন তারাশঙ্কর। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী পড়ুয়াদের মেধা পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা এবং তাঁদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংবাদপত্রের সামাজিক দায়িত্বও পালনের চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
দীর্ঘ কয়েক দশকের কর্মজীবনে মেদিনীপুরের সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাঁর। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের মধ্যে। জেলার সাংবাদিকতার ইতিহাসে তারাশঙ্কর চক্রবর্তীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।












