নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলদা: পুজোর আবহে বইয়ের স্টল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ! পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর বুক স্টলে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। শুধু ভাঙচুর নয়, স্টলে থাকা বই ছিঁড়ে ফেলা এবং বেশ কিছু বই লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তুলেছে এসইউসিআই। যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা রাজনৈতিক অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গৌরীশংকর অধিকারী। তাঁর দাবি, বিজেপির কর্মীরাই বরং বড়সড় অঘটনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন এসইউসিআইয়ের কর্মীদের। আর এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
এসইউসিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শারদোৎসব উপলক্ষে বেলদায় বইয়ের স্টল করে আসছে দলটি। প্রতি বছরের মতো এ বারও বেলদার গান্ধী পার্কে বুক স্টল তৈরি করা হয়েছিল। দলের দাবি, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই স্টলকে কেন্দ্র করেই বাধে বিপত্তি। অভিযোগ, রাত প্রায় ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ একদল দুষ্কৃতকারী আচমকাই বুক স্টলে চড়াও হয়। এসইউসিআইয়ের অভিযোগ, বিজেপি – এবিভিপি নেতা নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। স্টলে উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি ফ্লেক্স, ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে দাবি। রেহাই পায়নি স্টলে সাজিয়ে রাখা বইপত্রও। এমনকি, বেশ কিছু বই লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ দলের।
ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এসইউসিআইয়ের কর্মী-সমর্থকেরা। বুক স্টলের সামনেই প্রতিবাদ জানানো হয়। পরে প্রতিবাদ মিছিল করে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এসইউসিআইয়ের অভিযোগের সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা গিয়েছে বেলদা ৮/২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গৌরীশংকর অধিকারীর গলায়। তাঁর দাবি, বুক স্টল করার জন্য এসইউসিআইয়ের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত আবেদন জানানো হয়নি। কেবল মৌখিক ভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। উপপ্রধানের অভিযোগ, বইয়ের স্টলকে সামনে রেখে পুজোর সময় রাজনৈতিক অপপ্রচার চালাচ্ছিল এসইউসিআই। প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছিল বলেও দাবি তাঁর।
গৌরীশংকরের বক্তব্য, ওই ধরনের প্রচারে সাধারণ মানুষের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তবে ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি উপপ্রধান। তাঁর পাল্টা দাবি, বিজেপির কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেই বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। তাঁরাই এসইউসিআই কর্মীদের রক্ষা করেছেন। ফলে যে ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলছে এসইউসিআই, সেই ঘটনাতেই নিজেদের কর্মীদের উদ্ধারকারীর ভূমিকায় তুলে ধরছেন উপপ্রধান।
অন্য দিকে, অভিযোগের পরেও পিছু হটতে নারাজ এসইউসিআই। দলের তরফে জানানো হয়েছে, যে জায়গায় তাদের বুক স্টলে হামলার অভিযোগ উঠেছে, সেখানেই ফের বইয়ের স্টল করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সেখানে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে দলটি।
সব মিলিয়ে শারদোৎসবের মধ্যেই বেলদার বুক স্টল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এক দিকে হামলা, ভাঙচুর ও বই লুটের অভিযোগ, অন্য দিকে রাজনৈতিক অপপ্রচারের পাল্টা দাবি। তবে কারা ভাঙচুর চালিয়েছে, আদৌ কী কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা এখনও স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এখন প্রশ্ন একটাই বইয়ের স্টলে হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি প্রচার ঘিরে স্থানীয় ক্ষোভ? দু’পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।











